রবিবার (২০শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরান পল্টন মজলিস মিলনায়তনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় বিষয়ে সভায় এই সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন।
এ সময় লিখিত বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুুল কাদের বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ বাস্তাবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংবিধানে ব্যাপক সংস্কারের কথা থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে তা না করে এখন সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে জনপ্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪’র জুলাই গণ অভ্যুত্থানে হাজারো শহীদের জীবন দান ও হাজার হাজার ছাত্র জনতার ত্যাগের মধ্য দিয়ে খুনী ফ্যাসীবাদী হাসিনা সরকারের পতন হয়। গণ অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের দ্রুত বিচার, নিরপেক্ষ নির্বাচনের সাথে রাষ্ট্র সংস্কারের গণআকাঙ্খা পূরণে বিভিন্ন দল ও পক্ষের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ স্বাক্ষরিত হয়। পররর্তীতে জুলাই জাতীয় সনদ- ২০২৫ কে আইনী ভিত্তি প্রদানের জন্য জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করা হয় এবং জুলাই সনদের উপর ২০২৪ এর ১২ ফেব্রুয়ারী গণভোট দেয়া হয়। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ” ভোট দেয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন গণভোটে ভোটাররা মূল প্রশ্নের অধীনে মূলত চারটি প্রধান বিষয়ের ওপর মতামত দেয়:
ক) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান: নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠিত হবে।
খ) দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: আগামী সংসদ হবে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য নিয়ে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধানের যেকোনো সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
গ) মূল সংস্কার প্রস্তাবসমূহ: জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হওয়া ৩০টি সংস্কার-যার মধ্যে রয়েছে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদসীমা নির্ধারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-বিজয়ী দলগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে।
ঘ) অন্যান্য সংস্কার: জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে।
গণভোটের রায় অনুযায়ী গণভোটের বিষয়গুলোর মধ্যে ক, খ ও গ এ ৩ দফার বিষয়গুলো কোন রকম পরিবর্তন ছাড়াই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসসহ সকল ইসলামী দল এমনকি বিএনপি’রও একটি সাধারণ দাবী ছিলো সংবিধানের মূলনীতিতে “মহান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস” পুনঃস্থাপন করা।
মহাসচিব বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যগণ একই সাথে সাংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার কথা ছিলো। কিন্তু খেলাফত মজলিসের এমপিসহ বিরোধী দলের এমপিগণ দুটি শপথ গ্রহণ করলেও বিএনপির সংসদ সদস্যগণ সাংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে গণভোটের গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণকে হতাশ করেন। অধিকন্ত অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় গৃহীত বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালীকরণ, পুলিশ কমিশন ও গণভোট সংক্রান্তসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থান না করে বিএনপি সরকার জনপ্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা সংবিধান সংস্কার কমিটির পরিবর্তে জনগণকে একটা বুঝ দেয়ার জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করে। কিন্তু জনগণের দাবী ছিলো সংবিধানের আমুল পরিবর্তন তথা সংস্কার।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গঠিত সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি আজকে মতবিনিময় সভায় খেলাফত মজলিসের নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট সকলে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু যেহেতু জনগণের প্রত্যাশা ছিলো সংবিধান সংস্কার তথা আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন তাই খেলাফত মজলিস জনপ্রত্যাশার বিরুদ্ধে গিয়ে আজকের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিশেষ করে বর্তমান সংবিধান সংস্কারের জন্য সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী সকল দলের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ/ কমিটি গঠন করে গণপ্রত্যাশা ও গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। সরকার যদি জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করে সামনে অগ্রসর হতে চায় তবে তা সরকার জন্য কখনোই শুভ পরিণাম বয়ে আনবে না।
আজকালের কন্ঠ/আর বি