Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:২৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ , ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

লামায় ফ্যাসিবাদমুক্ত প্রেসক্লাব গঠনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন

লেখকঃ মোঃচান মিয়া, লামা প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামায় ফ্যাসিবাদমুক্ত, নিরপেক্ষ ও গণমুখী প্রেসক্লাব গঠনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা লামা প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যক্রম, সদস্যপদ, নেতৃত্ব নির্বাচন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে লামা প্রেসক্লাব সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী গরিব-অসহায়, নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখতে পারেনি। মিথ্যা মামলা, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, হয়রানি এবং বিভিন্ন জনস্বার্থের বিষয়ে প্রকৃত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রেসক্লাবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

তাঁদের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের বর্তমান নেতৃত্বের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সেসব বিষয়ে কার্যকর অনুসন্ধান বা নিরপেক্ষ অবস্থান দৃশ্যমান নয়। এতে প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের জবাবদিহি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে বক্তারা দাবি করেন।

মানববন্ধন থেকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ প্রদানের প্রক্রিয়া উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করা, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নিয়মিত নির্বাচন আয়োজন, আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ, সরকারি-বেসরকারি বরাদ্দ ও সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃতপক্ষে কর্মরত সাংবাদিকদের সদস্যপদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, একটি প্রেসক্লাব কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বা ১০জনের নিয়ন্ত্রণে না রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত দাবির পক্ষে কাজ করবে—এটাই প্রত্যাশা। এজন্য লামা প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক সংস্কার, নির্বাচন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।

লামা প্রেসক্লাব নিয়ে ১৪ প্রশ্ন—জবাব মিলবে কখন?

লামা প্রেসক্লাব কি কারও ব্যক্তিগত বা পৈত্রিক সম্পত্তি? যদি না হয়, তাহলে সদস্যপদ ও পরিচালনায় এত সীমাবদ্ধতা কেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের।

১। লামা প্রেসক্লাব কি কারও পৈত্রিক সম্পত্তি, নাকি এটি সাংবাদিকদের একটি উন্মুক্ত পেশাজীবী সংগঠন?

২। সদস্য সংখ্যা মাত্র ১১ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণ কী?

৩। ওই ১১ জনের মধ্যে বর্তমানে কতজন নিয়মিত ও সক্রিয় সংবাদকর্মী?

৪। প্রেসক্লাবের ভবন বিক্রি বা হস্তান্তরের অভিযোগ থাকলে—সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছেন এবং কোন নথির ভিত্তিতে?

৫। প্রেসক্লাবের কৃষি ব্যাংক হিসাব থেকে ২০ লাখের বেশি টাকা উত্তোলন বা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা কী? ব্যাংক হিসাব ও আয়-ব্যয়ের পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করা হবে কি?

৬। নতুন সদস্য গ্রহণ বন্ধ রাখার কারণ কী? সদস্যপদ দেওয়ার লিখিত নীতিমালা রয়েছে কি?

৭। প্রেসক্লাব ভবনের নিচের পানের দোকান/দোকানঘর বিক্রি বা হস্তান্তর করা হয়ে থাকলে—কার অনুমোদনে এবং কত টাকায়?

৮। প্রেসক্লাবের আসবাবপত্র বিক্রি করা হয়ে থাকলে—কে বিক্রি করেছেন, কত টাকায় এবং সেই অর্থ কোথায় জমা হয়েছে?

৯। ইটভাটা থেকে মাসিক অর্থ নেওয়া বা ‘মাসোহারা’র অভিযোগ থাকলে—এর সত্যতা যাচাই ও হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?

১০। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বা বরাদ্দের প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা তাঁদের নিকটাত্মীয়রা সুবিধা পাচ্ছেন—এমন অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হয়েছে কি?

১১। ১১ সদস্যের মধ্যে লামা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার একজন শিক্ষক, লামামুখ উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং পৌরসভার একজন কর কর্মকর্তার সদস্যপদের ভিত্তি কী? প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে এ বিষয়ে কী বলা আছে?

১২। একজন সাংবাদিক অন্য সাংবাদিকদের হয়ে নিয়মিত সংবাদ লিখে দিলে এবং এর বিনিময়ে মাসিক পারিশ্রমিক গ্রহণ করলে—এ ধরনের ব্যবস্থা প্রেসক্লাবের কোন নীতিমালায় অনুমোদিত?

১৩। সদস্য সংগ্রহ উন্মুক্ত করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে না কেন?

১৪। জেলা পরিষদ থেকে প্রেসক্লাবের জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে—কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, কে উত্তোলন করেছেন এবং কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—তার হিসাব কোথায়?

প্রিন্ট করুন