পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি ব্যবহার করে জমি দখল, একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোসাররফ হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আকন।
অভিযোগের প্রতিকার, নিজেদের নিরাপত্তা এবং জমির দখল ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীর আকন। এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্যে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
জাহাঙ্গীর আকন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটা এলাকায় জমিজমা ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করে আসছেন। তার দাবি, সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে সৈয়দ মোসারেফ, জি.এম. ফারুক, মো. ইউনুছ মিয়া ও মোসাম্মাৎ জাহানারা ইসলাম মোট ০.৭৭ একর জমির মালিক হন। ১৯৯৭ সাল থেকে ওই জমির মালিকানা থাকলেও পরবর্তী সময়ে আনোয়ার নামে এক পাহারাদারের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে মোসাররফ হোসেন জমিটি দখলে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোসাররফ তার রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে বিএনপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে বিরোধপূর্ণ ওই জমির সামনে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি সংবলিত ব্যানার ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে দাবি করে জাহাঙ্গীর বলেন, মোসাররফ হোসেনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ৩৫৭/২৪, ৩৫৮/২৪, ৪৭৯/২৪ ও ১৪৯/২৪ নম্বরসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাতেও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীর আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীপক্ষ জমিটি অবৈধভাবে ভোগদখলে রাখে। জমির মালিকরা নিজেদের জমির দখলে যেতে চাইলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, গত ২ সেপ্টেম্বর একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে গেলে আদালত চত্বরে মোসাররফ হোসেন তার লোকজন নিয়ে তাকে আটক করেন এবং ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনজন আইনজীবী ও কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টির সমাধান হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
জাহাঙ্গীর আকন আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মোসাররফ হোসেন ওই জমিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির পাশে নিজের ছবি ব্যবহার করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে একই কৌশলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবির সঙ্গে নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার স্থাপন করে জমির দখল বজায় রাখার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ-সংক্রান্ত কিছু ছবি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে, জাহাঙ্গীরের দাবি, সান ভিউ প্রপার্টিজ লিমিটেডের পক্ষে মোসাররফ হোসেনসহ ছয়জন ওই জমির মালিক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মোসাররফ হোসেন জমিটির মূল্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে বিক্রি করেন। তবে বিক্রয়লব্ধ অর্থের মধ্যে অপর পাঁচ মালিকের অংশ তাদের বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সান ভিউ প্রপার্টিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল হক অবগত নন বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর।
অন্যদিকে, বিএস ৭৭৭ নম্বর খতিয়ানের রাখাইন মার্কেটের পূর্ব পাশে অবস্থিত আরেকটি জমির ক্ষেত্রেও শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিজের ছবি সংবলিত সাইনবোর্ড ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের মামলায় আলোচিত আবেদ আলীর কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মোসাররফ হোসেন বলেন, “আমি কারও জমি দখল করতে যাইনি এবং কাউকে কোনো ধরনের হয়রানিও করিনি। আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সঠিক নয়। উল্টো আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি