নৌবহরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত স্বাক্ষর কুন্ডু টয়ের শোকাহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও রাজদেবোত্তর স্টেটের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং টয়ের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, টয়ের স্ত্রীকে উপযুক্ত একটি চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবারটিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নৌবহরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে স্বাক্ষর কুন্ডু টয় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে ১২ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—টয়ের কন্যার ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও জীবনযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান, তাঁর স্ত্রীর জন্য স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, নৌবহর পরিচালনাকারী কমিটির অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ছাড়া কমিটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে অনুসন্ধান, ভবিষ্যতে নৌবহর আয়োজনে জেলা প্রশাসনের বিশেষ নজরদারি ও তদারকি, ফিটনেসবিহীন ও অনিরাপদ নৌযান ব্যবহার বন্ধ, পর্যাপ্ত মানসম্মত লাইফ জ্যাকেট ও উদ্ধার-সামগ্রী নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিতে আরও বলা হয়, নৌবহর যাত্রার আগে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে নৌযান, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যাত্রীসংখ্যা ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে অনুমতি প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি নৌবহরে প্রশিক্ষিত ডুবুরি ও উদ্ধারকারী দল, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্রিফিং, জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা চান না; বরং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, টয়ের মৃত্যু যেন শুধু একটি পরিবারের কান্না হয়ে না থাকে; বরং এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে নৌবহর আয়োজনে আরও নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি