Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ২৫, ২০২৬ , ৫:২৭ অপরাহ্ণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে অনৈতিক সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসর

লেখকঃ মোঃ নাসির খান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে সহকারী শিক্ষকের স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক ও অসদাচরণের অভিযোগে ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়াকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম। এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্ত শেষে তাকে এ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. আব্দুল আজিজ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা যায়, ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। তদন্তে অভিযোগগুলো অসদাচরণ হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী তার বাধ্যতামূলক অবসরের আদেশ কার্যকর করা হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, বিভাগীয় নথি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সখিপুরের ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মোল্লার সাবেক স্ত্রী শাহানাজের সঙ্গে প্রধান শিক্ষক আলী আসাদের অনৈতিক সম্পর্ক ও অশ্লীল ইমু চ্যাটিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি পরবর্তীতে শিক্ষা বিভাগের নজরে এলে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে অভিযোগনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতেও অংশ নেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর প্রধান শিক্ষককে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তার জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক হয়নি। পরে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়।

৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বছর খানেক আগে আমার পারিবারিক ঝামেলা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে মিমাংসার জন্য আমি ও আমার স্ত্রী সহযোগিতা চাই। সেখান থেকে তিনি আমার স্ত্রীর ফোন নাম্বার নিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে স্কুলের সভাপতি সহ স্থানীয় কয়েকজনকে জানিয়েছি। কিন্তুু প্রধান শিক্ষক কিছুদিন না যেতেই আবারও পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। এরপর আমি আমার স্ত্রীকে ডিভোর্স করি। পরে স্থানীয়দের কথায় আমার তিন সন্তানের কথা চিন্তা করে তার ভুল ক্ষমা করে তাকে পূনরায় বিয়ে করি। কিন্তুু মাস দুই না যেতেই আবারও আমার স্ত্রীকে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ব্লাকমেইল করে ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে রাত্রি যাপন করে। এই লম্পট প্রধান শিক্ষক আমার সংসার ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন। তাঁর কারণে আমার স্ত্রীর সঙ্গে আবারও ছাড়াছাড়ি হয়েছে। শিশুসন্তানদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এই ঘটনায় আমি উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। তদন্ত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আমি একজন অসহায় শিক্ষক ও একজন বাবা হিসেবে ন্যায় বিচার পেয়েছি।

এবিষয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে ফোন করা হলে প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়া বলেন, ‘বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে আপনাদের জানাবো’।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিভাগীয় কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। ইতোমধ্যে চিঠিটি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। বিভাগীয় আদেশে বলা হয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এবং অভিযুক্তের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী তাঁকে বাধ্যতামূলক অবসরের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন