Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:২২ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ২৪, ২০২৬ , ৫:১৩ অপরাহ্ণ

শ্রমিক সংকটে দুমকিতে আমন রোপণ বিলম্বিত

লেখকঃ দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দুমকিতে কৃষিশ্রমিক সংকটে রোপা আমনের চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। চড়া মজুরি দিয়েও প্রয়োজনীয় শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে বেড়েছে আমন চাষের উৎপাদন খরচ।

সরেজমিনে উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, লেবুখালী, আঙ্গারিয়া ও শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমি চারা রোপণের জন্য প্রস্তুত থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাজ শুরু করতে পারছেন না কৃষকেরা। স্থানীয়ভাবে আগে ৬০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পাওয়া গেলেও বর্তমানে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, কোথাও ১ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে আগাম চুক্তিতে মৌসুমি শ্রমিক এনে চারা রোপণ করছেন।

কৃষকেরা জানান, শ্রমিকের বাড়তি মজুরির পাশাপাশি ডিজেলের মূল্য ও জমি চাষের খরচ বেড়েছে। তেলের সংকটের কারণে অতিরিক্ত খরচে ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুত করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমন চাষে এবার উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কৃষক আবদুল মজিদ হাওলাদার বলেন, একই জমিতে বোরো চাষের পর এখন আমন রোপণ করছি। কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো চারা রোপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের কৃষক সৈয়দ জিয়া উল হাসান বলেন, ‘ডিজেলের দাম ও শ্রমিকের মজুরি দুটোই বেড়েছে। এত খরচ করে চাষাবাদ করতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি।’

তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজ চলছে। শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে উঁচু জমিতে আমন রোপণ শুরু হয়েছে। ভাদ্রের মধ্যে রোপণ শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দুমকিতে ৬ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ ৬ হাজার ৬৮০ হেক্টর ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।

দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইমরান হোসেন বলেন, শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা তৈরিতে কিছুটা বিলম্ব হলেও বর্তমানে চারার অবস্থা ভালো। কৃষকদের উচ্চফলনশীল জাত চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে আমনের ভালো ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন