লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তাঁর তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে। গত ২৫ জুন ২০২৬ রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা-সংলগ্ন গোডাউন রোড এলাকায় শাহীনুর বেগম ও তাঁর তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, নাফিজা আক্তার ইকরা ও শিফা আক্তারকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ২৮ জুলাই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, তদন্ত শেষ পর্যায়ে এবং চার্জশিট প্রস্তুতের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানোর কথাও বলা হয়েছিল।
কিন্তু ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুত সংবাদ সম্মেলন হয়নি। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—তদন্তের রিপোর্ট কোথায়? চার্জশিটের অগ্রগতি কী? প্রকৃত হত্যাকারী কারা?
এলাকাবাসীর দাবি, এত আলোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া জরুরি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়ে থাকলে তা প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না কেন—এ প্রশ্নেরও কোনো সুস্পষ্ট উত্তর মিলছে না। এতে হত্যাকাণ্ডটি ধীরে ধীরে ধামাচাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রশ্ন, চারটি প্রাণের হত্যার ৫০ দিন পরও যদি পুলিশ নীরব থাকে, তাহলে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে কবে?
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে পুলিশের প্রতিশ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।
চারটি প্রাণের রক্তের হিসাব চায় রায়পুরবাসী—নীরবতা নয়, তারা চায় সত্যের প্রকাশ ও ন্যায়বিচার।
আজকালের কন্ঠ/আর বি