Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৯:২১ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ১৪, ২০২৬ , ১২:৪১ অপরাহ্ণ

দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী তাওহীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন অ্যাডভোকেট পলাশ

লেখকঃ বরিশাল জেলা প্রতিনিধি

বরিশালের বানারীপাড়ায় দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থী তাওহীদ ইসলামের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাজু হাওলাদার পলাশ।

জীর্ণশীর্ণ ছোট্ট ঘর। অভাব-অনটনের সংসার। বাবা দিনমজুর, মা গৃহিণী। সংসারের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা যেন অনেক বড় সাহসের বিষয়। তবে অভাবের কাছে হার মানেনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জবেদপুর গ্রামের তাওহীদ ইসলাম। বুকভরা স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। অবশেষে এসেছে সাফল্যও। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী সন্তান তাওহীদ।

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তাওহীদের পরিবারে নেমে আসে আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেও রয়েছে চাপা কষ্ট। কারণ, জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও তাওহীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-সে কি ভালো একটি কলেজে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে? ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কি পূরণ হবে তার?

তাওহীদ ইসলাম বানারীপাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জবেদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা মো. ফারুক হোসাইন একজন দিনমজুর এবং মা রিমা খানম গৃহিণী। সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

কথার একপর্যায়ে তাওহীদ জানায়, সে জবেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে। নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে পড়তে চায় সে। কিন্তু তার বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা চালু না থাকায় বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ নেই। তাই সে সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট)-এ ভর্তি হতে চায়।অনেক প্রচেষ্টার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তাওহীদকে নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করানো হয়।

সেখান থেকেই শুরু হয় তাওহীদের নতুন লড়াই। অভাব ছিল, প্রয়োজন ছিল; কিন্তু তার চেয়ে বড় ছিল স্বপ্ন। অক্লান্ত পরিশ্রম ও পড়াশোনার প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়ে সে এগিয়ে যেতে থাকে। নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাতেও ভালো ফল করে নিজের মেধার প্রমাণ দেয়। এরপর এসএসসি পরীক্ষায়ও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে অর্জন করে জিপিএ-৫।

তবে তাওহীদের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। তাকে ভালো একটি কলেজে ভর্তি হতে হবে। এরপর উচ্চশিক্ষার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। অথচ দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানোর পর ছেলের কলেজে ভর্তি, বই-খাতা, শিক্ষা উপকরণ, যাতায়াতসহ পড়াশোনার খরচ বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

ফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি তাওহীদের চোখে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার ছায়া। ছেলের উচ্চশিক্ষার ব্যয়ভার বহন করা নিয়ে চিন্তিত তার বাবা-মাও।

যে ছেলেটি একদিন একটি বিদ্যালয়ের মাঠের এক পাশে বসে একজন শিক্ষকের কাছে শুধু একটি সুযোগ চেয়েছিল, সেই ছেলেটিই আজ জিপিএ-৫ পেয়েছে। এখন তার প্রয়োজন আরেকটি সুযোগ-উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

তাওহীদের মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে থেমে না যায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবান, শিক্ষানুরাগী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক মানুষের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আঁধার ঘরের এই আলো যেন অর্থের অভাবে নিভে না যায়।

সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জনের পরও ভালো কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তাওহীদ ও তার হতদরিদ্র পরিবার। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ। তিনি ভালো কলেজে ভর্তিসহ তাওহীদের পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন মহানুভবতায় নিজের দুশ্চিন্তা কেটে যাওয়ায় আইনজীবী রাজু আহমেদের প্রতি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাওহীদ ও তার পরিবার।

এ প্রসঙ্গে অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০০২ সালে এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী বানারীপাড়ার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন, অর্থাভাবে আমার জন্মভিটার কোনো মেধাবী সন্তান উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি আমার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই তো জাতীয় সম্পদ এবং আগামী দিনের অগ্রযাত্রার প্রতীক। সবার সহযোগিতায় তাওহীদ ভালো কিছু করতে পারলে আমাদের সমাজ আরও বিকশিত হবে এবং অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন