Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ১:২২ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ৯, ২০২৬ , ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

টিসিবি ডিলারদের সাথে চুক্তি নবায়ন না করার একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে টিসিবি ভবন ঘেরাও

লেখকঃ শাহজালাল (রাসেল)

‎০৯ আগস্ট রবিবার কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। ২০২৫ সালের নীতিমালা ও ২০২৫ (সংশোধিত) নীতিমালার মাধ্যমে সারাদেশের টিসিবির বৈধ ডিলারদের সাথে চুক্তি নবায়ন না করার একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান।

‎আপনারা জানেন, পূর্বে (২১ জুন ২০২৬ ও ২১ জুলাই, ২০২৬ইং) তারিখে আপনাদের মাধ্যমে জাতীয় প্রেসক্লাব মাওলানা মোঃ আকরাম খান হলে ও টিসিবির ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম এবং ২২ ও ২৩শে জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাব এর সামনে ৩৯ ঘন্টা অনশন করেছিলাম। এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও টিসিবির চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের আবেদন করেছিলাম।আজ অত্যন্ত দুঃখের বিষয় দীর্ঘ একমাসেরও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পরেও আশানুরূপ ও সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় তারই ধারাবাহিকতায় আজকের টিসিবি ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হলাম।

‎সম্প্রতি টিসিবি কর্তৃক ২০২৬ সালের জুন মাসে যাদের ডিলারশীপের নবায়ন মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের পুনঃনবায়ন না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে আমরা অবগত হয়েছি। এ সিদ্ধান্তে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও মর্মাহত। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক প্রণীত “ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫” এবং পরবর্তীতে জারি করা (সংশোধিত নীতিমালা ২০২৫)-এর মাধ্যমে সারাদেশের পুরনো, অভিজ্ঞ ও বৈধ ডিলারদের একপাক্ষিকভাবে বাদ দেওয়া এবং তাদের ডিলারশিপ নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও ২০২৫ সালের জুনে যাদেরকে নবায়ন দেওয়ার কথা তাদেরকেও নবায়ন না করায় আমরা উৎকণ্ঠিত। এই বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘টিসিবি ডিলার বাঁচাও আন্দোলন বাংলাদেশ’-র পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ও টিসিবি ঘেরাও কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।

‎আমরা দীর্ঘদিন ধরে সুনাম ও বিশ্বস্ততার সহিত এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি এমনকি করোনা মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা চরম অর্থনৈতিক মন্দার সময়েও জীবন বাজি রেখে এবং নিজস্ব অর্থায়নে দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বল্পমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন এই বৈধ ডিলাররা। অথচ কোনো ধরনের পূর্ব-আলোচনা বা যৌক্তিক কারণ ব্যতিরেকে “নীতিমালা ২০২৫” ও “সংশোধিত নীতিমালা ২০২৫”-এর অসংগতিপূর্ণ দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ডিলারদের সরাসরি বাতিল ও নবায়ন বন্ধ করার ষড়যন্ত্র করেছে এই ফ্যাসিস্ট প্রশাসন। তাই ফ্যাসিস্ট প্রশাসনের এই ষড়যন্ত্রে হঠাৎ সিদ্ধান্তে আজ সারাদেশের হাজার হাজার ডিলার পরিবার ও তাদের আওতাধীন কর্মচারীদের জীবন জীবিকা এক চরম অন্ধকার ও হুমকির মুখে পতিত হয়েছে।

‎টিসিবির ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা, ২০২৫ (সংশোধিত)-এর ডিলার নির্বাচন, যোগ্যতা, আবেদন, যাচাই-বাছাই, নবায়ন এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের বিস্তারিত বিধান রয়েছে। নীতিমালায় যোগ্যতা যাচাই ও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নবায়নের ব্যবস্থা ও বর্ণিত হয়েছে। এছাড়া নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, শর্ত ভঙ্গ বা অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু কোনো ধরনের ব্যক্তিগত অভিযোগ, তদন্ত বা কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ব্যতিরেকে শুধু নির্দিষ্ট সময়ে নবায়নের মেয়াদ শেষ হওয়াকে ভিত্তি করে সকল ডিলারের পুনঃনবায়ন বন্ধ রাখা নীতিমালার উদ্দেশ্য, প্রশাসনিক ন্যায়বিচার এবং সংবিধানের মৌলিক চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতার অধিকার, ৩১ অনুচ্ছেদে আইনগত সুরক্ষা লাভের অধিকার এবং ৪০ অনুচ্ছেদে বৈধ পেশা পরিচালনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

‎মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বেকারত্বদের কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ছিলো কিন্তু টিসিবির কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মসংস্থানের বিপরীতে কয়েক হাজার মানুষ আজ বেকারত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি।

‎আমাদের মধ্যে অধিকাংশ টিসিবি ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, পণ্য বিতরণে অনিয়ম কিংবা শাস্তিযোগ্য অভিযোগ নেই বরং দীর্ঘদিন ধরে সন্তোষজনকভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন করেও শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে পুনঃনবায়নের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়া আমাদের জন্য চরম বৈষম্যমূলক ও হতাশাজনক। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বর্তমানে বিদ্যমান ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

‎আমরা বিনীতভাবে জানাতে চাই, আমরা কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তির অংশ নই। বরং ফ্যাসিস্ট শাসনামলেও আমাদের অনেকেই অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং জনগণের পাশে অবস্থান করেছি। তাই শুধুমাত্র অপপ্রচার বা রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের মূল্যায়ন করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী হবে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে আট হাজার টিসিবি ডিলার ও তাদের পরিবার এই ডিলারশিপের ওপর নির্ভরশীল। এই ডিলারশিপ শুধু একটি ব্যবসা নয়-এটি হাজারো পরিবারের একমাত্র জীবিকা ও পরিচিতি। যথাযথ মূল্যায়ন ছাড়া চুক্তি নবায়ন না হলে হাজারো পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে এবং একই সঙ্গে টিসিবির সেবার ধারাবাহিকতাও ব্যাহত হতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই বিশ্বাস থেকেই আমাদের বিনীত আবেদন, প্রতিটি টিসিবি ডিলারকে তাঁর সততা, কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও সেবার রেকর্ডের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হোক।

‎এই কালো আইন কার্যকর হলে-

· ‎আমরা টিসিবির ডিলাররা সারা বাংলাদেশে ১ কোটি পরিবারের মাঝে টিসিবির পন্য সরবরাহ করে থাকী। হাজার হাজার ডিলার ও তাদের পরিবার জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

· ‎টিসিবির অভিজ্ঞ বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

· ‎সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

· ‎দীর্ঘদিনের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ডিলারদের পরিবর্তে নতুন ব্যবস্থা চালু করতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হবে।

· ‎এই সিদ্ধান্তের কার্যকর হলে ভোক্তাদের মাঝেও এর প্রভাব পড়তে পারে, যা টিসিবি ও বর্তমান সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন হওয়ার আশংকা রয়েছে।

‎অতএব আমাদের বিনীত দাবিসমূহ:

‎১। ২০২৬ সালের জুন মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ টিসিবি ডিলারদের পুনঃনবায়ন বন্ধ রাখার নির্দেশনা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুনে যাদের সাথে নবায়ন হয়নি তাদেরকেও নবায়ন দেয়া হোক।

‎২। কোনো ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে নীতিমালা অনুযায়ী কারণ দর্শানোর সুযোগ, তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক।

‎৩। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক প্রণীত “ডিলার নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫” এবং পরবর্তীতে জারি করা (সংশোধিত নীতিমালা ২০২৫)-এর কালো আইন বাতিল করা হোক।

‎৪। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে টিসিবির অভিজ্ঞ ও সফল ডিলারদের পুনঃনবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হোক।

‎সারাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত টিসিবি ডিলার নতুন ও সংশোধিত নীতিমালার ডিলার-বিরোধী শর্তাবলী বাতিল করে বৈধ ডিলারদের চুক্তি স্বয়ংক্রিয় নবায়ন করতে হবে। একইসাথে, দাবি আদায় না হলে সারাদেশজুড়ে টিসিবির পণ্য উত্তোলন ও বিতরণ বন্ধসহ পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রিন্ট করুন