Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ৫, ২০২৬ , ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

দুমকিতে তীব্র লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন, চরম ভোগান্তিতে গ্রাহক

লেখকঃ দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কয়েকদিন ধরে তীব্র বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে অসহনীয় লোডশেডিং, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা।

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। বরফকল, বৈদ্যুতিক ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা সীমিত পরিসরে চলায় কাজ হারিয়ে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন অনেক শ্রমিক। একই সঙ্গে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্যসেবাতেও। হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর ল্যাব কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে বাসাবাড়ির ফ্রিজ, টেলিভিশন, পানির মোটর, আইপিএসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। এর মধ্যে মাস শেষে আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। অনেকেই একে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

এ বিষয়ে বাউফল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, “পল্লী বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নয়, আমরা কেবল সরবরাহকারী। জাতীয় গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যায়, সে অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দুমকি উপজেলায় প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এছাড়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।”

তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন