Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ২, ২০২৬ , ২:১৪ অপরাহ্ণ

অতিরিক্ত লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ নেত্রকোণার লাখো গ্রাহক

লেখকঃ সুশীল আচার্য্য, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোণায় পল্লীবিদ্যুতের লাগামহীন লোডশেডিং আর অভিযোগের ভুতুড়ে বিলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো গ্রাহক। শহরে কিছুটা বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে মানুষকে। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

নেত্রকোণা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির আওতায় জেলার ১০টি উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের দুটি উপজেলার প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। প্রতিদিন জেলায় প্রায় ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়ায় কয়েক মাস ধরে বেড়েছে তীব্র লোডশেডিং।

শহর এলাকায় দিনে কিছু সময় বিদ্যুৎ মিললেও গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালের রোগী, শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অভিযোগের ভুতুড়ে বিল।

গ্রাহকদের দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ না পেলেও অনেকের হাতে পৌঁছাচ্ছে অস্বাভাবিক পরিমাণ বিল। বিদ্যুৎ অফিসের অনিয়ম, গাফিলতি ও হয়রানিরও অভিযোগ তুলেছেন তারা

অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, শিক্ষার্থী, পোল্ট্রি খামারি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানিরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেচকাজ ব্যাহত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষকরাও।

এদিকে, নেত্রকোণা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. আকরাম হোসেন বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মাঝেই এই সংকট কাটাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

লোডশেডিং কমানো, ভুতুড়ে বিলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম ও হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ চান নেত্রকোনার লাখো গ্রাহক। কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন