গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে ভোলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখা।
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১ আগস্ট) বাদ আসর ভোলা বোর্ডিং মসজিদ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বোর্ডিং মসজিদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে ভোলা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়ক, শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটখোলা মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পুরো কর্মসূচিতে জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, জেলা নায়েবে আমীর ও ভোলা-১ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা হারুন অর রশিদ, সদর উপজেলা আমীর মাওলানা কামাল হোসাইন, পৌর আমীর মাওলানা জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমীর মো. রুহুল আমিন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভোলা শহর সভাপতি মো. হাসনাইন আহমেদ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের গণআন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা এবং গণভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের রায় বাস্তবায়ন বর্তমান সময়ের অন্যতম জাতীয় দাবি। তারা অভিযোগ করেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও সংস্কার কার্যক্রমে ধীরগতির কারণে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, গুম কমিশন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডসহ জুলাইয়ের সব হত্যার নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য শুভ হবে না। তারা সরকারকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং সতর্ক করে বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান না হলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশব্যাপী আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে গণমিছিল সম্পন্ন করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি