জলমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লালমনিরহাট জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি শেলী বেগমের (৫১) বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট, চুরিসহ শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় রাজারকার পুত্র ও আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী নেত্রী ও তাঁর দলীয় কর্মীরা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের খুর্দ্দসাপটানা (আলোকরূপা মোড়) এলাকার বাসিন্দা ও জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি মোছাঃ শেলী বেগম উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে লিখিত বক্তব্যে হামলার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেলী বেগম জানান, রাজারকার পুত্র ও লালমনিরহাট পৌর আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান কোরাইশী এবং তাঁর ভাই ইকবাল কোরাইশী ও জাবেদ কোরাইশীসহ একদল প্রভাবশালীদের সঙ্গে তাঁর স্বামীর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। জমিটির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন (অন্য নং-১৯/২২) থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা তা জবরদখলের নানা অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার বিবরণে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৭ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে জাহিদ হাসান কোরাইশীর হুকুমে বিবাদীরা বাঁশের লাঠি, লোহার রড, ছোরাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। তারা তাঁর স্বামীকে মারধর করতে গেলে শেলী বেগম বাধা দিলে বিবাদীরা তাঁকে বেধড়ক মারপিট করে।
তিনি আরও জানান, হামলার একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘরের টিনসেড রুমের স্টিলের ট্রাংক ভেঙে গৃহনির্মাণের জন্য রাখা নগদ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা চুরি করে নেয়।
এছাড়া, তাঁকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তাঁর গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এমনকি তাঁর চোখে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও পথচারীরা এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা কেটে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (ভর্তি রেজি নং: ৬৩০/৪১৬০)। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেলী বেগম আরও বলেন, প্রধান অভিযুক্ত জাহিদের ভাই ইকবাল কোরাইশী মাংস বিক্রির আড়ালে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। এছাড়া বিবাদীরা সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে যত্রতত্র গরু জবাই করে পরিবেশ দূষণ এবং চোরাই গরু কেনাবেচার সাথে জড়িত।
এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে ভুক্তভোগী জেলা মহিলা দলের নেত্রী শেলী বেগমের সমর্থনে এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসেন তাঁর দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নারী নেত্রীর ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা ও শ্লীলতাহানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সদস্য হালি বেগম, রোকসানা বেগম, ফাতেমা বেগমসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি