
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ এর ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নবীনবন অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে প্লেকার্ড প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ স্নাতক শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নবীনবন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালী বক্তব্য রেখেছেন বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্পর্ক অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আলম শাহ্।
এসময় শিক্ষার্থীদের ‘ম্যাম হত্যার বিচার চাই,’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস ফর সাদিয়া ম্যাম’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়,”রুনা ম্যাম কেবল একজন শিক্ষিকাই ছিলেন না, তিনি আমাদের অভিভাবকের মতো ছিলেন। এমন একজন ভালো মানুষকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমরা তাদের দ্রুত শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ড আমাদের পুরো শিক্ষক ও ছাত্রসমাজকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ক্যাম্পাস বা সমাজের কোথাও আজ মানুষের নিরাপত্তা নেই। ম্যামের হত্যাকারীদের যদি দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হয়, তবে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। আজকে একজন শিক্ষিকা নিরাপদ নন, কাল যে আমরাও এমন পরিস্থিতির শিকার হবো না, তার নিশ্চয়তা কোথায়? প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, অনতিবিলম্বে খুনিদের গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
শিক্ষার্থীদের দাবি, “রুনা ম্যামের হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত খুনিদের অনতিবিলম্বে শনাক্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হতে হবে এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কাজ সম্পন্ন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে যেন কোনোভাবেই অপরাধীরা পার পেয়ে না যায় এবং নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের সার্বিক আইনি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।”
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা কে তার নিজ অফিস কক্ষে গলা কেটে হত্যা করে কর্মচারী ফজলুর রহমান৷ পরবর্তীতে সে নিজেও নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। নিহত শিক্ষিকার চিৎকারে ভবনে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দৌড়ে গিয়ে দরজা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ এসে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া কে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। অভিযুক্তরা হচ্ছেন – কর্মচারী ফজলুর রহমান, সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :