Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৫৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ১, ২০২৬ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ

ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় কুড়িগ্রামে বাইপাস সড়ক নির্মাণে ধীরগতি

লেখকঃ কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় কুড়িগ্রামে নির্মাণাধীন নতুন বাইপাস সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রাম শহরের যানজট অনেকটাই কমবে এবং জেলার উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও দ্রুত হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের আওতায় প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দাশেরহাট থেকে তারামন বিবির মোড় পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের জন্যই ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় ২ কিলোমিটার অংশের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও অধিকাংশ জমির মালিক এখনো ক্ষতিপূরণের অর্থ হাতে পাননি। অন্যদিকে অবশিষ্ট ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার অংশের ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। ফলে প্রকল্পের বড় একটি অংশে এখনো পূর্ণাঙ্গ নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি।

বর্তমানে অধিগ্রহণ সম্পন্ন হওয়া অংশে মাটিভরাট ও সড়কের ভিত্তি নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন পাঁচটি কালভার্টের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ভূমি জটিলতার কারণে অন্যান্য কাজের গতি আশানুরূপ নয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের নির্ধারিত অংশের বিভিন্ন স্থানে এখনো বৈদ্যুতিক খুঁটি, দোকানপাট ও বসতবাড়ি রয়েছে। এসব স্থাপনা অপসারণ না হওয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক স্থানে কাজ প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল আলম বলেন, “প্রথম দিকে কাজের গতি ভালো ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা তৈরি হওয়ার পর থেকে কাজ অনেক ধীর হয়ে গেছে। এতে এলাকাবাসী ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে কাজ শেষ করা প্রয়োজন।”

আরেক বাসিন্দা শাহা আলম বলেন, “রাস্তার জন্য জমি মাপজোকের সময় থেকেই বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সড়কের মধ্যে পড়ে ছিল। কিন্তু এখনো সেগুলো অপসারণ করা হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে নির্মাণকাজও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।”

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত প্রকল্পের গড় অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ না হলেও তারা প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন। বাকি কাজের অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মো. রায়হান কবির বলেন, “জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হলেও আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পুরো জমি বুঝে পেলে দ্রুতগতিতে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।”

কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা অনেক আগেই ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় অর্থ জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি। কিন্তু অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্পের কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আশা করছি, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে নির্মাণকাজও দ্রুত শেষ করা যাবে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাইপাস সড়কটি চালু হলে নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ী, ভূরুঙ্গামারী ও সোনাহাট স্থলবন্দরগামী যানবাহন কুড়িগ্রাম শহরে প্রবেশ না করেই চলাচল করতে পারবে। এতে শহরের যানজট কমবে, সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং জেলার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন