Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ আগস্ট ১, ২০২৬ , ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

গোবিপ্রবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের উদ্যোগে ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লেখকঃ মোঃ ইসতিয়াক আহম্মদ আসিফ, গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার আয়োজনে ‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধারা অংশ নিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও প্রত্যাশা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ৫০১ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র অধিকার পরিষদ গোবিপ্রবি শাখার সভাপতি সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসান এবং প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মাদ আলী তোহা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. আহসান বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, ৮০ ও ৯০-এর দশকের ছাত্র রাজনীতির আদর্শ, জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্ব ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি একসময় অনুসরণীয় ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রভাবের কারণে সেই ধারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলন এবং ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—ক্ষমতা কখনো চিরস্থায়ী নয়। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, প্রতিহিংসা পরিহার করে ন্যায় ও মানবতার পক্ষে থেকে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবার দায়িত্ব।”

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মোহাম্মাদ আলী তোহা বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও আত্মত্যাগকে ধারণ না করলে নতুন বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়। তিনি শহীদ আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ, ওয়াসিমসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের স্মরণ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের পথ তৈরি হয়েছে।”

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় কিছু সাংবাদিক আন্দোলনে সহযোগিতা করলেও কেউ কেউ বিশ্বাসঘাতকতার ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৈষম্য এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নে ধীরগতিরও সমালোচনা করেন।”

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন গোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক খন্দকার, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুবর্ণা জয়া, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাবীব এবং ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব শাওন আহমেদ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, জসিম উদ্দিন ও পলাশ ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন