Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৪:৪৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ৩০, ২০২৬ , ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

কুয়াকাটা জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালা

লেখকঃ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পর্যটননগরী কুয়াকাটায় জালনোটের প্রচলন প্রতিরোধ এবং নিরাপদ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমস অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল কার্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় লিড ব্যাংক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, কুয়াকাটা শাখা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে। কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুর এলাকার ১৪টি তফসিলি ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গ্রাহক, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মো. মনিরুজ্জামান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল কার্যালয়ের পরিচালক মো. এমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক সঞ্জয় কুমার দত্ত এবং কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, কুয়াকাটা শাখার ব্যবস্থাপক এ কে এম মোর্শেদ।

কর্মশালায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আসল ও জাল নোটের পার্থক্য, নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন মূল্যমানের নোটে থাকা সিকিউরিটি ফিচার এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে সহজেই আসল নোট শনাক্ত করতে পারবেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। পাশাপাশি জালনোট শনাক্ত হলে করণীয় এবং সন্দেহজনক নোটের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পদ্ধতিও তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশালের পরিচালক মো. এমদাদুল হক বলেন, “জালনোট প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। এখনও অনেকেই অসতর্কতার কারণে প্রতারণার শিকার হন। তাই প্রত্যেককে টাকা গ্রহণ ও লেনদেনের সময় সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও বলেন, নগদ অর্থের পাশাপাশি ডিজিটাল ও ক্যাশলেস লেনদেনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে জালনোটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হয়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, জালনোট প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত এ ধরনের কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মশালায় অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকসহ কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুর এলাকার ১৪টি তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও কর্মশালায় অংশ নেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন