
কুড়িগ্রামের সকল উপজেলায় সপ্তাহের ব্যবধানে মরিচের দাম কেজিতে দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজার মনিটরিং এর দাবি জানান সাধারণ মানুষের।
এছাড়া গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে স্থানীয় সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সকল প্রকারের সবজির দাম বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। গত সপ্তাহে মরিচ কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি করলেও তা আজ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত। এদিকে শুকনো মরিচ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য সবজি বেগুন, শশা, সজনে, পটোল ও করলা সহ অন্যান্য সবজির দাম বেশি থাকলেও আলুর দাম কিছুটা কম রয়েছে।
উলিপুর পৌর বাজারের আড়তদার মরিচ কেজি প্রতি বিক্রি করছেন ২২০ টাকা, খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা। করলা বিক্রি করছেন ৮০ টাকা খুচরা বিক্রেতা তা বিক্রি করছেন ১০০ টাকা, বেগুন ৫০ টাকা খুচরায় বিক্রি করছেন ৭০ টাকা ও পটল ৬০ টাকা খুচরায় তা বিক্রি করছেন ৭০ টাকা। নানা ভাবে পেঁয়াজ, মরিচ, বেগুন ও পটোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ নেই স্বস্তিতে। তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় ভাবে আমদানি না থাকায় সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
সরেজমিন গত রবিবার ও আজ সোমবার (২৬ ও ২৭ জুলাই ) সকালে কুড়িগ্রাম জিয়া বাজার উলিপুর পৌর সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা পাইকারদের কাছে বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৫০ টাকা তা খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, সাজিনা ১২০ টাকা খুচরায় ১৫০ টাকা, আলু দেশি ১৮ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, আলু হলান্ড ১৭ টাকা খুচরায় ২৫ টাকা, শসা ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২২০ টাকা খুচরায় ২৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা খুচরায় ১০০ টাকা, দেশি পিয়াজ ৪৫ টাকা খুচরায় ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা খুচরায় ৩০ টাকা, পটল ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা খুচরায় ৮০ টাকা, আদা ১৫০ টাকা খুচরায় ১৮০ টাকা, শুকনা মরিচ ৪০০ টাকা খুচরায় ৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, ঢেড়স ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা খুচরা ৬০ টাকা, কদোয়া ৫০ টাকা খুচরা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা খুচরা ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা খুচরা ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ছোট বড় ভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা খুচরায় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা মুখি কচু ৪৫ টাকা খুচরায় ৫০ টাকা, মূলা ৭০ টাকা খুচরায় ৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিচ ৪০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা, শশা ৫০ টাকা খুচরায় ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শাক-সবজির বাজার দর এমন ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। বাজার মনিটরিং এর দাবী জানান ক্রেতারা।
পৌর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আব্দুর রশিদ সরকার জানান, গত সপ্তাহেও মরিচের দাম কম ছিল। পাইকেরিতে কেজিতে ক্রয় করেছি ৫০ টাকা তা বাজারে খুচরায় বিক্রি করেছি ৬০ টাকা। এখন দ্বিগুন দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকেরিতে ক্রয় করছি ২২০ টাকা খুচরায় তা বিক্রি করছি ২৬০ টাকা। কাচা বাজারের আরদ থেকে বেশি দামে নিয়ে এসে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে কাচামরিচ অন্যান্য সবজির বেচা-কেনা অনেক কম হয়েছে। প্রয়োজনের চাহিদার তুলনায় কম কিনেছেন ক্রতারা। তিনি আরও বলেন, সবজি সহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে ক্রেতা কমে যায়। ক্রেতা কমে গেলে আয় কম হয় যা দিয়ে সংসার পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে যায়। এতে করে প্রতিদিনেই ঘাটতি থেকেই যায়।
তবকপুর ইউনিয়নের বামনের হাট বাজারের খুচরায় সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন আগে মরিচ সহ অন্যান্য সবজির বাজার কম ছিলো। এতে করে আমরা বেশি বিক্রি করতে পেয়েছি। মরিচ সহ অন্যান্য সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রি অনেক কমে গেছে। বিক্রি কম হওয়ায় লাভ কম হচ্ছে।
পৌর বাজারে সবজি নিতে আসা গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার, মরিয়ম ও জেসমিন বলেন, কাচামরিচ সহ অনেক ধরনের সবজির দাম বৃদ্ধি রয়েছে। কাঁচা বাজার নিম্ন আয়ের মানুষের হাতের লাগালে নেই। গত সপ্তাহের চেয়ে আজ মরিচ সহ অন্যান্য সবজির দাম দ্বিগুন হয়েছে। গত সপ্তাহে কাচামরিচ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা আজ তা বাড়িয়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা। এছাড়া বেগুন, পটোল, করলা, সজনের দাম অনেক বৃদ্ধি রয়েছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :