দীর্ঘদিনেও নেই সংবাদ সম্মেলন, প্রকাশ হয়নি তদন্তের অগ্রগতি—রায়পুরের পাঁচ প্রাণহানির রহস্য কি এখনো অমীমাংসিত? | Daily AjKaler Kontho

দীর্ঘদিনেও নেই সংবাদ সম্মেলন, প্রকাশ হয়নি তদন্তের অগ্রগতি—রায়পুরের পাঁচ প্রাণহানির রহস্য কি এখনো অমীমাংসিত?


জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ন
দীর্ঘদিনেও নেই সংবাদ সম্মেলন, প্রকাশ হয়নি তদন্তের অগ্রগতি—রায়পুরের পাঁচ প্রাণহানির রহস্য কি এখনো অমীমাংসিত?

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সংঘটিত আলোচিত মা ও তিন মেয়ে হত্যা এবং পরবর্তীতে গণপিটুনিতে অন্তর মজুমদারের মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। তদন্তে কী কী তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে, হত্যার উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে—এসব বিষয়েও বিস্তারিতভাবে জনসমক্ষে কিছু জানানো হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৯ জুন ২০২৬ রাতে রায়পুর পৌরসভার একটি বাসা থেকে শাহিনুর বেগম (৩৮), তার মেয়ে সাইমা আক্তার (২১) ও শিফা আক্তার (৯)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে অন্তর মজুমদারকে আটক করলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তারও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মোট পাঁচটি প্রাণহানির ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলেও এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং বা সংবাদ সম্মেলন না হওয়ায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত উদ্দেশ্য, আলামত, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণ এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা পায়নি।

এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। এ খবর প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের সব গুরুত্বপূর্ণ দিক কি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, নাকি কিছু বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনার পরপরই নিহতদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে নিহত মায়ের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মোবাইলগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।”

সচেতন নাগরিকদের মতে, বহুল আলোচিত এমন একটি ঘটনায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী সংস্থার উচিত প্রয়োজনীয় সীমার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা। এতে যেমন গুজব কমবে, তেমনি তদন্ত নিয়েও মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।

তবে তদন্ত চলমান থাকায় অনেক তথ্য আইনি কারণে প্রকাশ না-ও করা হতে পারে। তদন্ত শেষ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনের মাধ্যমেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আজকালের কন্ঠ/আর বি