Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৫:৪৬ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ২৩, ২০২৬ , ৩:১৪ অপরাহ্ণ

ছদ্মবেশে ওসি শাকের আহম্মেদের অভিযান, ডাকাত চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

লেখকঃ জামাল খান, ময়মনসিংহ ব্যুরো চীফ

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার একটি বসতবাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ। কৌশলী পরিকল্পনা, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং ছদ্মবেশে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডাকাত চক্রের সাত সদস্যের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুট হওয়া নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গভীর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার একটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল হামলা চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের পরপরই দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

তদন্তের শুরু থেকেই পুলিশ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করে। গোপন তথ্য সংগ্রহ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সন্দেহভাজনদের গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারি এবং ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডাকাত চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর পরিকল্পিত অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ডাকাতির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাকের আহম্মেদ বলেন, “অপরাধী যতই কৌশলী হোক, আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না। ডাকাত চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় দুর্গাপুর থানা পুলিশ সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে পুলিশের এ সফল অভিযানে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের আন্তরিকতারই প্রতিফলন। তারা পলাতক ডাকাতদের দ্রুত গ্রেপ্তারেরও দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক চার সদস্যকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামাল যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন