Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ২১, ২০২৬ , ৮:১৩ অপরাহ্ণ

জাককানইবিতে বাংলা বিভাগে বর্ণিল আয়োজনে দেশীয় ফল উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত

লেখকঃ জাককানইবি প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সমিতি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের উদ্যোগে ‘দেশীয় ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের তৃতীয় তলায় ‘তরুণের সাধনা সম্মেলন কক্ষে’ আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সমিতি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে দেশীয় ফল উৎসব- ২০২৬ একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন। আমরা ছোটবেলায় একসাথে অনেক ফলের নাম বলতে পারতাম, এখন খুব কম শিক্ষার্থীই একসাথে অনেক ফলের নাম বলতে পারবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সাথে ফলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। যেমন: প্রবাদ আছে- তাল পাতার সেপাই, পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়া ইত্যাদি। ফল উৎসব শুধু ফল খাওয়ার জন্যই নয়, ফল সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা শুধু সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নয় বরং বিভিন্ন দেশী ফলের প্রায় আশি প্রকার ফলজ বৃক্ষের চারা রোপন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর পরেই আমরা আমাদের নিজস্ব ফল দিয়েই ফল উৎসব করতে পারবো।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. আহমেদুল বারী। সভাপতিত্ব করেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা-প্রিন্স)।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করা, ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় কৃষি ও মৌসুমি ফলের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাষা-সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উৎসব ভবিষ্যতেও দেশীয় ফলের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,এবারের ফল উৎসবে আম, কাঁঠাল, আনারস, কলা, পেয়ারা, ডাব, লটকন, আমড়া, ড্রাগন, খেজুর, কামরাঙা, ডালিমসহ ২০টিরও বেশি দেশীয় ও মৌসুমি ফল প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসবটি
উন্মুক্ত ছিল।

আয়োজকদের মতে, দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন