সাতক্ষীরায় বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্রকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক বদলি) করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। আদেশে তাকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৬ জুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আবু সাঈদ শুভ্র। যোগদানের মাত্র ১৩ দিনের মাথায়, অর্থাৎ ২৯ জুন সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে ফলদ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ শুরু হয়। এই চারা বিতরণের সময়ই বাঁশের খুঁটি ও গোবর সার ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেন তিনি। বাঁশের খুঁটি: প্রকল্পে প্রতি পিস বাঁশের খুঁটির মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও কৃষকদের দেওয়া হয় মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা মূল্যের অত্যন্ত নিম্নমানের খুঁটি।
এছাড়া প্রতি কৃষকের জন্য ৬০০ টাকা মূল্যের উন্নত মানের গোবর/জৈব সার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে কৃষকদের ধরিয়ে দেওয়া হয় মাত্র ৪৮০ টাকা মূল্যের একটি কোম্পানির প্যাকেটজাত নিম্নমানের সার। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার মোট ১,২০০ জন কৃষকের মাঝে চারা বিতরণের এই খাত থেকে ভুয়া ভাউচার ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ওই কর্মকর্তা। উপকারভোগী কৃষকদের ক্ষোভ এবং এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরই তাকে শাস্তিমূলকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতির খবর গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই বদলি ঠেকাতে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে জোর দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছিলেন এই কর্মকর্তা। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত বাকিদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।