কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে পৃথক দুটি মাছধরা ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ১৭ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও সাত জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। পরপর দুটি দুর্ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে মো. তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মহিমা নামের একটি ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মাছ শিকার শেষে ঘাটে ফেরার পথে অপর একটি ট্রলার থেকে আরও পাঁচজন জেলে ওই ট্রলারে ওঠেন। এ সময় ট্রলারটিতে মোট ১৮ জন জেলে ছিলেন।
বিকেল পৌনে ৬টার দিকে হঠাৎ বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার সময় জেলে কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ট্রলারটি উল্টে গেলে তারা কেবিনে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন। অপর জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন।
পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে ভাসমান অবস্থায় থাকা জেলেদের দেখতে পেয়ে একটি মাছধরা ট্রলার ১২ জন এবং অপর একটি ট্রলার আরও চারজনকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল, শামীম, খলিল, হৃদয়, আশরাফুল, ফারুক ও আল-আমিনসহ মোট ১৬ জন রয়েছেন। তাদের সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিখোঁজ কালাম ও শহীদও একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ট্রলারের মালিক মো. তপন জোমাদ্দার জানান, হঠাৎ করেই সাগর অত্যন্ত উত্তাল হয়ে ওঠে এবং প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। সমুদ্রের বৈরী পরিস্থিতির কারণে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুনরায় তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী বলেন, গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত অনেক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে ট্রলার প্রস্তুত রাখা হলেও উত্তাল সাগরের কারণে উদ্ধারকারী ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না।
তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে এখনো উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের চিকিৎসা ও সার্বিক বিষয়ে প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।
এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় আরও একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর পাঁচ জেলের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি