Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ , ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ৬, ২০২৬ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দলিল লেখক সমিতির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

লেখকঃ মোঃ ইসমাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খন্দকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে (০৫ জুলাই) জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির (ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলার) সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাসেম এই অভিযোগপত্র দায়ের করেন। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এনএসআই সদর দপ্তর, জেলা রেজিস্ট্রার এবং পুলিশ সুপারসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান খন্দকার বিগত ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এই সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। এমনকি বিগত ৫ই আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় অর্থের মাধ্যমে ওই রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতা করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান।

অভিযোগপত্রে মিজানুর রহমান খন্দকারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে দুই শতাধিক কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আধুনিক হাসপাতালের মালিকানা।
শহরের মৌলভীপাড়ায় নামকরা ‘হ্যালো বেকারী’সহ ৩টি বাড়ি।

জেলা শহরের মুন্সেফ পাড়ায় ৩টি বাড়ি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে ২০টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।
আনুমানিক ১ কোটি টাকা মূল্যের ১টি প্রাডো গাড়ি।

ভৈরব উপজেলার মানিকদিতে ৬০০ শতক জায়গার ওপর বিশাল গরুর ফার্ম।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দলিল লেখক সমিতিতে প্রতি সাফ-কবলা দলিলের শেরেস্তার ওপর অন্যায়ভাবে ৪হাজার ৩০ টাকা এবং হেবা ঘোষণা, দানপত্র ও হেবাবিল এওয়াজ দলিলের ওপর ৫,০০০ টাকা করে অবৈধ লেভি বা চাঁদা আদায় করে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এছাড়া আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমিতির বিভিন্ন স্তরের নেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছেন:

অর্থ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম (২,৫০,০০০/- টাকা)

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আরিফুল হক রুবেল (১,৫০,০০০/- টাকা)

দপ্তর সম্পাদক মুকাদ্দেসুর রহমান লস্কর (২,০০,০০০/- টাকা)

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নোমানুল ইসলাম (১,৫০,০০০/- টাকা)

প্রচার সম্পাদক মোঃ সাদ্দাম হোসাইন (১,০০,০০০/- টাকা)

সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুস ছালাম (১,০০,০০০/- টাকা)

এভাবে আরও বেশ কয়েকজন সদস্য ও সম্পাদকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ আবুল হাসেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ দলিল লেখকেরা তার অন্যায় ও অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করে আসছেন। অনেকে লাইসেন্স হারানোর ভয়ে এবং মামলার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। কিন্তু বর্তমানে তার এই সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতা ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সমিতির সাধারণ সদস্যরা অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ দলিল লেখকদের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক মিজানুর রহমান খন্দকারের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন