
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় টানা আট মাস ধরে চলছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। পৌরসভার ছয়টি গভীর নলকূপের মধ্যে দুটি বিকল হয়ে যাওয়ায় প্রায় ২৫০টি পানির সংযোগে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরসভার ১, ৪ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক হাজার বাসিন্দা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক বাড়িতে পানির সংযোগ ও কল থাকলেও পানি নেই। ফলে প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে বাসিন্দাদের দূরের নলকূপে ছুটতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানির জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কালকিনি পৌরসভা ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। প্রায় ২৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় প্রায় ৪৬ হাজার মানুষের বসবাস। বর্তমানে ১ হাজার ৪৭০টি সংযোগের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হলেও দুটি গভীর নলকূপ বিকল থাকায় গত আট মাস ধরে প্রায় ২৫০টি সংযোগে পানি পৌঁছাচ্ছে না।
১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহিমা খাতুন বলেন, “অনেক দূর থেকে পানি আনতে হয়। আমাদের এলাকায় খাল বা পুকুরও নেই। দ্রুত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে দেওয়ার দাবি জানাই।”
২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলিয়া বেগম বলেন, “পানি না থাকায় প্রতিদিন অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে। পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে।”
৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রহমান ফকির বলেন, “অনেক সময় পানি এলেও তাতে অতিরিক্ত আয়রন থাকে। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত নষ্ট পাম্প মেরামত করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
কালকিনি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, “দুটি গভীর নলকূপের পাম্প বিকল হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।”
কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ উল আরেফীন বলেন, “সংকট নিরসনে বিকল্প উৎস থেকে পানি সরবরাহের জন্য সংযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত স্বাভাবিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত বিকল নলকূপ মেরামত করে নিয়মিত ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি
আপনার মতামত লিখুন :