Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুলাই ৫, ২০২৬ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামে তীব্র নদীভাঙন মোকাবিলায় নিরলস কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

লেখকঃ কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পর এখন পানি কমতে শুরু করলেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মাঠপর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটটি উপজেলার অন্তত ৩৩টি পয়েন্টে নদীভাঙন শনাক্ত হয়েছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় ভাঙনের তীব্রতা বেশি। এর মধ্যে রৌমারীর চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০টি ২৫০ কেজি ওজনের জিও ব্যাগের চাহিদা নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সুখেরবাতি এলাকার জন্য ৩৪ হাজার ৬০০টি এবং কোদালকাটির জন্য ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রয়োজন। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ডাম্পিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় জিও ব্যাগ পৌঁছেছে, সেখানে ডাম্পিং চলমান রয়েছে এবং কয়েকটি স্থানে ভাঙনের গতি কমতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আজিজ বলেন, “নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে। কখন ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হয়ে যায় সেই আতঙ্কে আছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।”

রৌমারী উপজেলার বাসিন্দা সালাম বলেন, “প্রতিদিন নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছি। কর্মকর্তারা এসে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো আমাদের বসতভিটা রক্ষা পাবে।”

পাউবোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন, নদীতীর পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্থানে জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, বর্তমানে ৩০টি নদীভাঙন পয়েন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০টি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানে জরুরি ভাঙন দেখা দিচ্ছে, সেখানে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। প্রতিটি স্থানে প্রায় ৭৫ মিটার করে সংরক্ষণ কাজের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায়ও প্রতিরক্ষা কাজ প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদীর বাম তীরে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীন ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উভয় তীর সংরক্ষণে প্রায় ৫৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যদিও জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তবে মাঠপর্যায়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ধারাবাহিক তৎপরতা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের ফলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন