ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী মো. মানিক রহমানের উদ্যোগে ক্যাম্পাসজুড়ে ১০০০ রক্তকাঞ্চনের (জার্মানির ল্যাভেন্ডার প্রজাতী) চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়াম প্রাঙ্গণে এ কর্মযজ্ঞের উদ্বোধন করা হয়। এসময় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ, শিক্ষার্থী মো. মানিক রহমান ও তার সহপাঠীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, বৃক্ষ হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে পুরাতন বন্ধু, যে মানুষকে বাঁচতে সাহায্য করেছে এবং পৃথিবীতে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। তোমাদের মধ্যে এই বৃক্ষ প্রীতি, প্রকৃতি প্রীতি, নদী প্রীতি, এসব যদি আসে তাহলে সেটা খুবই আনন্দের। এই ছেলেটি (মানিক রহমান) আজ সবাইকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ১০০০ গাছ লাগানোর। ওর অসম্ভব ভালোবাসা গাছের প্রতি। আমি আশা করব, শিক্ষার্থীরা শুধু লেখাপড়া শিখে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলে যাবে, তা না। প্রত্যেকে যেন একটা করে গাছ লাগিয়ে যায়। তোমাদের পক্ষে যদি সম্ভব হয় আমাদের লেকের ধারে তোমরা কিছু শোভাবর্ধন গাছ লাগাও। প্রকৃতির সঙ্গে থাকো। প্রকৃতি তোমাদেরকে নির্মল আনন্দ দেবে।
অনুভূতি ব্যক্ত করে মানিক রহমান বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ১০০০টি রক্তকাঞ্চন গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গাছটি খুবই দৃষ্টিনন্দন। বিভিন্ন ক্যাম্পাসের পাশাপাশি আমাদের ক্যাম্পাসেও দুইটা আছে। আমি ভাবলাম যে, ক্যাম্পাসে যদি আরও সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কিছু ফুল গাছ লাগানো যায়, তাহলে ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর লাগবে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই আমি শহীদ আনাস হলের দুইটা গাছ খেকে বীজ সংগ্রহ করি। পরবর্তীতে শাহ আজিজুর রহমান হলের পরিত্যক্ত জায়গায় বীজগুলো রোপণ করে চাষযোগ্য করে তুলি। এখন ৩০০০-৪০০০ বীজ থেকে প্রায় ২০০০ মতো পরিমাণ চারা হয়েছে। সেই গাছগুলো থেকেই এখন আমি পুরো ক্যাম্পাসে পর্যায়ক্রমে ১০০০ গাছ লাগাব ইনশাআল্লাহ। যদি পরিকল্পিতভাবে চারাগুলো লাগানো যায় আমি আশা করি কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের ইবি ক্যাম্পাস বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ক্যাম্পাসে রুপ নিবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি