চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া ঝর্ণায়,প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে ভ্রমণপিপাসু মানুষ। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে নিজেকে একটু প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিয়ে যেতে লোকজন দলবেঁধে সবাই ছুটেছে ঝর্ণায়।
আকার আকৃতি ও গঠনশৈলীর দিক দিয়ে বেশ বড় খৈয়াছড়া ঝর্ণা। মোট ৮টি মূল ধাপ ও অনেকগুলো বিচ্ছিন্ন ধাপ আছে। প্রকৃতির নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে দেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষ। কিন্তু ঝর্নায় প্রবেশ করার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি নেওয়ার অভিযোগ করে পর্যটকরা। নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। কিন্তু ইজারাদার বনবিভাগের শর্ত না মেনে, নিজের মত করে যা ইচ্ছে নিচ্ছে, টিকিটের দাম ১০ টাকা বেশি অর্থাৎ ৩০ টাকা রাখা হচ্ছে বলে পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন।
গতকাল ছয় বন্ধুকে নিয়ে যশোর থেকে ঝর্ণায় ঘুরতে আসা রনি বলেন, বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসলাম। ঝর্ণায় পানি আছে এখন অনেক আনন্দ করেছি। তবে টিকিটের মূল্য ১০ টাকা বেশি রাখছে,আগে টিকিটের মূল্য ২০ টাকা ছিল, এখন ৩০ টাকা নিচ্ছে। আমাদের ছয় জন থেকে ১৮০ টাকা রাখছে।
ঝিনাইদহ থেকে ঘুরতে আসা কলেজছাত্র ইমন বলেন, ‘আমি প্রথমবার খৈয়াছড়া ঝর্ণায় বেড়াতে এসেছি। খুব সুন্দর একটি ঝর্ণা। এতদিন শুধু নাম শুনেছি, প্রথমবার এসে খুব ভালো লাগছে। তবে ঝর্ণায় যাওয়ার পথ কিছুটা কষ্টের, অনলাইন দেখেছি প্রবেশ ফি ২০ টাকা কিন্তু গেইটে নিয়েছে ৩০ টাকা করে।
বনবিভাগের তথ্যমতে প্রতি বছর যদি দেড় লখ পর্যটক ঘুরতে আসে জনপ্রতি ১০ টাকা করে বাড়তি নিয়ে ১৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদার।
ঝর্ণার ইজারাদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, এবার আমাদের খরচ একটু বেশি হয়েছে তাই দুই ঈদে ১০ টাকা করে বাড়িয়ে নিয়েছি, গত শনিবার থেকে বাড়তি নিতে না করেছি, গত কাল টাকা বাড়তি নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আর নিবো না, আমরা ঝর্নার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে সচেতনতামূলক ব্যানার ফ্যাস্টুন টাঙাতে হয় তাই খরচ বেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগ-এর বারৈয়াঢালা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম জানান প্রবেশ ফি ২০ টাকা করে, এর থেকে বেশি নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। যদি বেশি নেওয়ার অভিযোগপাই আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথ বলে ব্যবস্থা নিবো। প্রতি বছর ঝর্না দেখতে কত জন পর্যটক আসে জানতে চাইলে তিনি বলেন দেড় লাখ থেকে দুই লাখ হবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি