ময়মনসিংহ জেলায় আলোচিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত তদন্ত, রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এলআইসি টিমকে পুরস্কৃত করেছেন ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
জানা যায়, পাগলা থানায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামিকে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় ডিবির এলআইসি টিম। একই সঙ্গে গৌরীপুর থানা এলাকায় উদ্ধার হওয়া একটি অজ্ঞাত লাশের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে শনাক্ত ও দ্রুত গ্রেপ্তার করে টিমটি। ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পেশাদার তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে এ দুটি ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে তারা।
জেলা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর এসব ঘটনার তদন্তে ডিবির এলআইসি টিম অত্যন্ত দক্ষতা, সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়। ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মামলার অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে। এতে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয় এবং তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়।
ডিবির এলআইসি টিমের এ অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান। পুরস্কার প্রদানকালে তিনি টিমের সদস্যদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত তদন্তে জেলা পুলিশ সবসময় পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশের প্রতিটি ইউনিট নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বশীলতা, সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। যারা নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ভালো কাজ করবেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও উৎসাহ প্রদান অব্যাহত থাকবে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশরাফুল করিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি ডিবির এলআইসি টিমের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে এবং ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
জেলা পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলায় অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি