লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সেখানেই চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, ছাদ থেকে বালি-খোয়া খসে পড়া এবং বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ সালে খালেক মোল্লা, মালেক মোল্লাসহ স্থানীয় মোল্লা পরিবারের ভূমি দান এবং নুরুল হক মাস্টার, হেদায়েত উল্যা মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ শেখের সার্বিক সহযোগিতায় কাঠ ও টিনের ঘরে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের আর্থিক সহায়তায় ১৯৮৮ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আরও একটি একতলা ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে দুটি ভবনই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের সাতটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেগুলোতেই পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল, পিলার, ছাদ ও মেঝেজুড়ে বড় বড় ফাটল। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে বই-খাতা ভিজে যায়। ঝড়ো বাতাসেও শ্রেণিকক্ষে নিরাপদে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত আক্তার বলেন, “আমরা সবসময় ভয়ের মধ্যে ক্লাস করি। মাঝেমধ্যে ছাদ থেকে বালি-খোয়া পড়ে। বিদ্যালয়টি দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল, মেহেদী, মিতু ও আয়শা এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শারমিন, রশ্নী ও সাজিব জানায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। তারা নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়ার জন্য নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানায়।
অভিভাবক ইমাম হোসেন মোল্লা ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সন্তানদের প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠিয়ে আমরা আতঙ্কে থাকি। দীর্ঘদিনেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।”
আরেক অভিভাবক, সাবেক উপজেলা ছাত্রদল নেতা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী এক ব্যক্তি টেলিফোনে বলেন, “ঐতিহ্যবাহী পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন সংকটের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি, যাতে নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বিদ্যালয়টির অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়।”
সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন বলেন, “বিদ্যালয়ের ভবনটি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা উচিত। আতঙ্কের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”
সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আমরাও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন থাকতে হয়।”
প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন বলেন, “দুটি ভবনের সাতটি শ্রেণিকক্ষের অবস্থা খুবই বেহাল। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে এবং ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।”
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, “আমি নতুন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। আপাতত ভবন মেরামতের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ডিও (ডেমি-অফিসিয়াল) লেটার দিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।”
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র বলেন, “একসময় বিদ্যালয়টির ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতা ছিল। বর্তমানে ভূমির সমস্যা সমাধান হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন ভবনের জন্য আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র জমা দেয়নি।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি