নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের অনুকূলে ঐচ্ছিক তহবিল অনুদানের প্রকাশিত তালিকায় খোদ সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়। তবে শনিবার(২৭ জুন) দুপুরে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে ব্যাখা দিয়ে জানিয়েছেন, ‘তালিকায় নাম যা ই থাক প্রকৃত হকদাররাই পাবেন বরাদ্দের অর্থ।’
চলতি মাসের ১৪ জুন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের অর্থ শাখা -২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব রাখী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানা যায়, নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের অনুকূলে নিজ কর্তৃত্বে বন্টনের জন্য ২০০২৫-২৬ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বন্টনের মঞ্জুরি দেয়া হয়। যা সংসদ সদস্যের দেয়া নামীয় তালিকার ২১ জনের অনুকূলে বন্টনের কথা বলা হয় চিঠিতে। ওই চিঠির ১ ও ৮ নং ক্রমিকে ফাইজা নাম ব্যবহার করে পিতার নাম দেখানো হয় যথাক্রমে মো. বাচ্চু এবং মো. আতাউর। আর ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয় নড়াইল সদরের হবোখালী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড। একই তালিকায় দুই ক্রমিকে ফাইজা নামের বিপরীতে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের অনুমোদন চাওয়া হয়।।
সংসদ সদস্যের অনুমোদন পাওয়া চিঠিতে, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে মোট ৮০ হাজার টাকা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) নড়াইল -২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক তহবিল অনুদানের মঞ্জুরিকৃত চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তালিকায় সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয় সমালোচনা।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি স্পষ্ট ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘ একজন সংসদ সদস্যদের বার্ষিক ঐচ্ছিক তহবিলে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। আমি এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এই অর্থ বছরের বাকি সময়ের জন্য আমাকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই টাকা নেয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা আগেই জমা দিতে হয়। এলাকায় ব্যস্ত থাকার মধ্যে ব্যক্তিগত সহকারী ফোনে জানায়, আজকের দিনের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বলি, তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও। সে জানায়, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন। তখন ব্যক্তিগত সহকারীর কাছে থাকা আমার স্বাক্ষরিত প্যাডে ওই তালিকা টা অফিসে জমা দিয়েছে। তালিকায় আমার এলাকার লোক বা আমার পরিবারের সদস্যদের নামও দিয়েছে। তালিকায় কাদের নাম দিয়েছে আমি তখন দেখার সুযোগও পাইনি।
তালিকায় আপনার পরিবারের সদস্যের নাম এটা কি সঠিক, এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি আতাউর রহমান বলেন, তালিকাটা ফেসবুকে দেখার পর ব্যক্তিগত সহকারীকে প্রশ্ন করেছিলাম আমার মেযের নাম কেন দিছো, সে উত্তরে জানিয়েছিলো প্রথমিক তালিকায় কোনো অসহায় দরিদ্রের নাম যাচাই-বাছাই ছাড়া দিয়ে পরে তাকে না দেয়া হলে সে ব্যক্তি এটা নিয়ে কথা ছড়াবে নাম দেয়া হলেও টাকা পাইনি। সে কারনেই আপনার পরিবারের সদস্যদের নাম দেয়া হযেছে। আমি জানতাম না বরাদ্দের টাকাটা এসেছে কি না? ফেসবুকে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে দেয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারি টাকাটা এসেছে। প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী নয়, অনুদান পাবার যোগ্য এমন ব্যক্তিদের তালিকা করেই বরাদ্দকৃত টাকা দেয়া হবে আশ্বস্ত করেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান।
বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান তার ভেরিফাইড পেজে ও একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি তার বক্তব্য তুলে ধরে শেষে লেখেন ‘নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে মহান আল্লাহ আমার পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জনগনের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী ৫ বছরে ছুঁয়ে দেখবে না ইনশাআল্লাহ।’
আজকালের কন্ঠ/আর বি