Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ২৬, ২০২৬ , ৩:৩৩ অপরাহ্ণ

কেন ঘটল রায়পুরের চার খুন? অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে নিয়ে বাড়ছে রহস্য

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় পুরো জেলায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার একদিন পরও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশের তদন্তে এখনও স্পষ্ট হয়নি কেন এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটল। এদিকে ঘটনার অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত অন্তর মজুমদারকে ঘিরেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (প্রায় ৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং রায়পুর শহরে দীর্ঘদিন ধরে ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন।

তবে নিহত পরিবারের সঙ্গে তার কী ধরনের সম্পর্ক ছিল বা কী কারণে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন—এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও পুলিশ এখনও কোনো সম্ভাবনাকেই চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করছে না। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

অন্যদিকে নিহত গৃহবধূ শাহীনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (৯)-এর মরদেহও ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরে রায়পুর শহরের ধানহাটায় জানাজা শেষে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে।

এ ঘটনায় পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. অরুপ পাল বলেন, পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ময়নাতদন্ত করা হবে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, “এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার রহস্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।”

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে ধারালো দা দিয়ে গৃহবধূ শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও বড় মেয়ে সায়মা আক্তারের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ইকরা ও শিফাও মারা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও নিহত হন। চাঞ্চল্যকর এ চার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

প্রিন্ট করুন