লক্ষ্মীপুরের দালালবাজার থেকে রায়পুর হয়ে রামগঞ্জ শহর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের মধ্যে দালালবাজার থেকে মীরগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ এখন চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন এ অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙা কার্পেটিং। ফলে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী প্রায় এক লাখ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের চৌধুরীবাজার, কাফিলাতলী থেকে মীরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে ইট-খোয়া বেরিয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে যানবাহন চলাচল হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে হেলেদুলে চলতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার বছর আগে সড়কটির সংস্কার করা হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই তা আবার নষ্ট হয়ে যায়। এরপর আর বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সড়কটির দুই পাশে অন্তত আটটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং চারটি বড় ও ছোট বাজার রয়েছে। প্রতিদিন রায়পুর, রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এ সড়ক ব্যবহার করেন। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে এবং বর্ষাকালে কাদা ও পানি জমে থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
সাগর্দি গ্রামের সমাজকর্মী বেলাল হোসেন বলেন, “রাস্তায় এত গর্ত যে অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার থেকে পণ্য আনতে এখন কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। অনেক অটোচালক এই পথে আসতেই চান না।”
রায়পুর ও সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকার কাজেরদিঘিরপাড় সমাজকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন তিন থেকে চার হাজার শিক্ষার্থী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় বই-খাতা নষ্ট হয়, অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারে না। শিক্ষক ও চাকরিজীবীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।”
স্থানীয় পরিবহনচালক মো. হাসিব ও সজল হোসেন জানান, সড়কজুড়ে গর্ত থাকায় প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। ১০ মিনিটের পথ যেতে এখন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এতে যাত্রীদেরও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
সড়কের বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা মিনহাজ বলেন, “অর্থ সংকটের কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। গত বন্যা ও অতিবৃষ্টিতেও সড়কটি আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সড়কটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”
এদিকে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং লাখো মানুষের চলাচলের এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি আবারও চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি