লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মাণাধীন একটি সেতুর মূল পিলারে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটির স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার কাওয়ালীডাঙ্গা এলাকায় ওয়াপদা খালের ওপর গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ পায় লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস এ এইচ ট্রেডার্স। ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১০ মে তা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।
গত ৮ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিম পাশের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের নিচের মূল পিলারে একাধিক ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ফাটলগুলো সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন, ফজলু মিয়া ও শহর আলীসহ কয়েকজন বলেন, সেতুটি নির্মিত হলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করবে। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই মূল পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় তারা এর গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং যথাযথ তদারকির অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের তদারকি করতেও খুব একটা দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং কার্য-সহকারী মো. সজিবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা সেতুটির পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, সেতুটির নির্মাণমান দ্রুত কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি