জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় লেখার কাজ দেরিতে জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আসলাম উদ্দিন উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী এলাকার রওজাতুল উলুম নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের হাটবাড়ী গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে জুনায়েদ (৮) ওই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সোমবার সে কিছুটা দেরিতে মাদ্রাসায় পৌঁছায়। পরে শ্রেণিশিক্ষক শিক্ষার্থীদের লেখার কাজ দিলে জুনায়েদের তা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় বেশি লাগে। এ কারণে শিক্ষক আসলাম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে বাঁশের বেত দিয়ে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিশুটির পরিবারের দাবি, মারধরের ঘটনায় জুনায়েদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গত দুই দিনেও তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই রয়েছে।
শিক্ষার্থীর বাবা লিয়াকত আলী বলেন, “লেখা দিতে দেরি হওয়ায় আমার ছেলেকে শিক্ষক বেত দিয়ে মারধর করেছেন। বিচার হবে বলে তাকে হাসপাতালে নিতেও দেওয়া হয়নি। এখন সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষক আসলাম উদ্দিন বলেন, “লেখা দিতে দেরি হওয়ায় আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। তাই তাকে মারধর করেছি।”
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবু হানিফা বলেন, “শিক্ষার্থীকে শাসন করতে গিয়ে বিষয়টি একটু বেশি হয়ে গেছে। এ ঘটনার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আহত শিক্ষার্থীর দ্রুত চিকিৎসা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি