শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকায় ধামাচাপার চেষ্টা | Daily AjKaler Kontho

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকায় ধামাচাপার চেষ্টা


মোঃ নাসির খান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : জুন ১৫, ২০২৬, ৩:২৭ অপরাহ্ন
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৫০ হাজার টাকায় ধামাচাপার চেষ্টা

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কয়েকটি চড়থাপ্পর মেরে ছেড়ে দেওয়ার রায় দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের এমন প্রহসনমূলক বিচারে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর নতুন বাজারসংলগ্ন পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি এলাকায় এই সালিশ বৈঠক হয়। আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজী। সেখানে আত্মীয়তার সূত্র ধরে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কাছে ডেকে নেন তিনি। পরে ওই শিশুকে জোরপূর্বক একটি ধৈঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত কামাল কাজীকে হাতেনাতে আটক করে।

ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন: স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সপম হাওলাদার, আব্দুর রহমান হাওলাদার , ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন হাওলাদার ও শাহজালাল চৌকিদার।

সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত কামাল কাজী তার অপরাধ স্বীকার করেন। এরপর সালিশকারীরা তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রকাশ্যে চড়থাপ্পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জরিমানার অর্থ আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণ চেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ প্রচলিত আইনে বিচার না করে গ্রাম্য সালিশে ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার বলেন, ”৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।” তবে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার এভাবে গ্রাম্য সালিশে করা আইনসঙ্গত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, ”ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোঃ নাসির খান (শরীয়তপুর প্রতিনিধি):

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানাধীন কাঁচিকাটা ইউনিয়নে এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে নিষ্পত্তি করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

সালিশে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং কয়েকটি চড়থাপ্পর মেরে ছেড়ে দেওয়ার রায় দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের এমন প্রহসনমূলক বিচারে স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কাঁচিকাটা ইউনিয়নের দুলারচর নতুন বাজারসংলগ্ন পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি এলাকায় এই সালিশ বৈঠক হয়। আজ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসেছিলেন চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজী। সেখানে আত্মীয়তার সূত্র ধরে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কাছে ডেকে নেন তিনি। পরে ওই শিশুকে জোরপূর্বক একটি ধৈঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্ত কামাল কাজীকে হাতেনাতে আটক করে।

ঘটনার পর আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন: স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি সপম হাওলাদার, আব্দুর রহমান হাওলাদার , ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার, সাবেক ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন হাওলাদার ও শাহজালাল চৌকিদার।

সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত কামাল কাজী তার অপরাধ স্বীকার করেন। এরপর সালিশকারীরা তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রকাশ্যে চড়থাপ্পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জরিমানার অর্থ আগামী ১০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণ চেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধ প্রচলিত আইনে বিচার না করে গ্রাম্য সালিশে ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালিশে উপস্থিত ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার বলেন, ”৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পরের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে।” তবে ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার এভাবে গ্রাম্য সালিশে করা আইনসঙ্গত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন জানান, বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। তিনি বলেন, ”ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি