নেত্রকোণার সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নে কংস নদের তীব্র ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও সংযোগ সড়ক। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একাধিক দোকানঘর, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১৫ গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা বাজার। আশপাশের অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন বেচাকেনা ও জীবিকার অন্যতম কেন্দ্র এই বাজার। একই সঙ্গে দুর্গাপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও এটি।
বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই কংস নদের ভাঙ্গন নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। একের পর এক দোকানঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাজারের কয়েকটি দোকান নদীতে চলে গেছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে বাজারসংলগ্ন সড়কও। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই ভাঙ্গন শুরু হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি দোকান নদীতে চলে গেছে। রাস্তার বড় অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন কৃষিজমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
সড়ক ভেঙ্গে যাওয়ায় কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেওয়া ব্যাহত হচ্ছে। রোগী পরিবহন থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত সব ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বে পুরো এলাকা।
রোগী নিয়ে চলাচল করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। কৃষকেরা ধানসহ বিভিন্ন ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই।
সাময়িক নয়, কংস নদের ভাঙ্গন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে রক্ষা পাবে বাজার, সড়ক ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
নদীভাঙ্গন রোধে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়নবোর্ডের কর্মকর্তারা।
মো. সাখাওয়াত হোসেন নির্বাহী প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, নেত্রকোণা।কংস নদের অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের উদ্বেগ। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই বাজার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি