Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ১১, ২০২৬ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

নাগেশ্বরীতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বিস্কুট আত্মাসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

লেখকঃ কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় মনিয়ারহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) প্রকল্পের খাবার আত্মাসাত ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে আতাত করে অবৈধ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক খাদিজা সুলতানা কেয়ার বিরদ্ধে। খাদিজা সুলতানা কেয়া নিষিদ্ধ আওয়ামী মহিলা লীগের জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকার প্রভাব খাটিয়ে বিগত দিনে বিদ্যালয়ে দুনীতি ও অনিয়ম করে আসছিল বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছে।

বর্তমান সরকারের স্থানীয় নেতাদের প্রশ্রয়ে বহাল তবিয়তে আছেন ওই প্রধান শিক্ষক।উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষা অফিসার কানিজ আক্তারের যোগসাজশে এমন অনিয়ম করে যাচ্ছে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন। এর আগেও ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম অভিযোগের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করলেও কোন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) মিড ডে বিস্কুট ৫৪০ প্যাকেট গ্রহনের কপি থাকলে ও গত মঙ্গলবার ৯ মে শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেয়া হয়নি স্কুলে। যদিও ২৭০ প্যাক বিস্কুট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহর কথা জানিয়েছে এই প্রতিবেদককে। ওই দিনের বরাদ্দে ২৭০ প্যাক বিস্কুট বিতরণ না করে মেয়াদ উর্ক্তীন বানরুটি প্যাক খুলে একটা করে দিয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে নিজের পছন্দমত মাদার নিয়োগ ও ফর্মালিনে পাকা কলা ও নিম্ন দরের ওজনে কম ডিম শিশুদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ করছে একাধিক অবিভাবক।

ফলে ফর্রামালিন যুক্ত কলায় পুষ্টির পরিবর্তে শিশুদের বিষ খাওয়াচ্ছে বলে তারা দাবি করছে। এদিকে এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করছে ওই প্রধান শিক্ষিকা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা মাসিক নিয়মিত ছাত্রছাত্রীদের রির্টানে ২৬০জন শিক্ষার্থী ভর্তির তথ্য থাকলেও প্রধান শিক্ষিক তিনশ জন শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে ৯০% হারে মিড ডে মিল খাবার গ্রহন করছে ২৭০ জনের।

এদিকে শিশুদের দৈনন্দিন উপস্থিত হাজিরা খাতায় দেখা যায় ১৮০ থেকে দুইশ জনের মত। নাগেশ্বরী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সরবরাহকৃত তিনশ শিক্ষার্থীর তথ্য আছে জানান উপজেলার দায়িত্বে থাকা খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইএসডির মাঠ কর্মী চন্দনা।

খাবার আত্মাসাতের বিষয়ে ওই প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানান অতিরিক্তি খাবার বা”চাদের মাঝে বন্ঠন করে দেওয়া হয়। যদিও উপস্থিত স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী বলছে ভিন্ন কথা, তারা জানান কখানো ডিম দুধ কলা ডাবল দেয় না ডাহা মিথ্যা কথা। স্থানীয় শহিদুল নামের এক ব্যক্তি বলছে ডিম কলা ও দুধের মেয়াদ অতিরিক্ত থাকায় সেগুলো প্রধান শিক্ষক আত্মাসাত করে খায়। অবিভাবক রবিউল বলেন হেডমাস্টার কেয়ার কারনে বা”চাদের লেখা পড়া হয় না। যতদিন এই হেডমাস্টার থাকবে ততোদিন এই স্কুলের লেখার পড়ার উন্নতি হবে না।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার স্বপন বলেন এটা আমার দেখার দায়িত্ব নয়। এটা টিও এটিও দেখে, তাদের সাথে কথা বলেন।

এদিকে স্থানীয় ও অবিভাবক ওই প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করলে সহকারী শিক্ষা অফিসার কানিজ আক্তার আসতে বাধ্য হলেও বিস্কুট আত্মাসাতের অভিযোগ শুনতে নারাজ তিনি। কোন অভিযোগ থাকলে শিক্ষা অফিসারকে লিখিত জানাতে বলেন।

এছাড়া আমার কিছু করার নাই বলে জানান তিনি। বিস্কুট আত্মাসাতের বিষয় অবিভাবক তাৎক্ষনিক তদন্তের চাপ দিলে উল্টো সহকারী শিক্ষা অফিসার কানিজ আক্তার তাদের ভয়ভীতি দেখান। আর বলেন আমার কিছু করার নেই। বেশি বাড়াবাড়ি করলে প্রশাসন কে ডাকব।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ.এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন লিখিত অভিযোগ পেলে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।সরকারের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া কমানো এ উদ্যোগকে সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও এ প্রকল্পের কার্যক্রমের অনিয়মের সঠিক তদারকি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে অবিভাবকের মধ্যে।

এদিকে প্রশাসনের মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও সঠিক তদারকি না থাকায় গোচ্ছা যাচ্ছে সরকারের কোটি টাকা।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন