আধুনিক যুগেও যৌতুকের লোভে নারী নির্যাতনের ঘটনা থামছে না। রাজধানীর কদমতলী এলাকায় যৌতুক ও সম্পত্তি আত্মসাতের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূর উপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সাবিনা আক্তারকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লোহার রডের আঘাতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তীব্র যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সাবিনা আক্তারকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছিল। সম্প্রতি যৌতুকের আরও টাকা ও সম্পত্তির দাবিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্বশুরবাড়ির লোকজন একত্রিত হয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তদন্তের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, যৌতুক নির্যাতন এখনও সমাজের একটি বড় কলঙ্ক। আইন থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তার প্রয়োগ দুর্বল। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি।
সাবিনা আক্তারের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পরিবার। ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগবে।
আজকালের কন্ঠ/আর বি