Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:২১ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ৫, ২০২৬ , ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ১০ দফা দাবি ও বৃক্ষ বিতরণ

লেখকঃ মোঃ খসরুজ্জামান কবীর,মধ্যনগর, সুনামগঞ্জ, প্রতিনিধি :

পরিবেশ সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। ‘জলবায়ু পরিবর্তনঃ আজকের পদক্ষেপ, আগামির নিরাপত্তা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ৫ জুন (শুক্রবার) সুনামগঞ্জের ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক নাগরিক সমাবেশ ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

​হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ এবং এসভিডিএস-এর যৌথ আয়োজনে এবং সহযোগী সংস্থা এএলআরডি-এর সহযোগিতায় এ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।​হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মো. রাজু আহমেদ-এর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও এসভিডিএস-এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক মিলন-এর সঞ্চালনায় সমাবেশে মূল ধারণা পত্র পাঠ করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী।

​সমাবেশে বক্তারা বিশ্ব পরিবেশ দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বলেন, ১৯৭২ সালে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলনের স্মরণে ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।​বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ​”জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ঘনঘন বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য আজ চরম হুমকির মুখে।”

​এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণা, নতুন উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি কৃষিকে জলবায়ু সহিষ্ণু ও টেকসই ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তারা।

​আলোচনা সভা শেষে নাগরিক সমাবেশ থেকে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলন। দাবিগুলো হলো:
​১. নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করা, বন উজাড় বন্ধ করা এবং হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
২. নদী ও পরিবেশ রক্ষায় শিল্প বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
৩. পানি সংরক্ষণ, পুনঃব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির প্রচলন।
৪. উপকূলীয় ম্যাংগ্রোভ বনসহ সব ধরনের বন সংরক্ষণ এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা।
৫. যাদুকাটা, ধোপাজান, চিলা, খাসিয়ামারা নদীসহ অন্যান্য নদীতে সব ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা।
৬. জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৭. ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরসহ সুনামগঞ্জের সকল হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা।
৮. সুনামগঞ্জের পর্যটন এলাকাগুলোর পরিবেশ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৯. হাওরে পর্যটনের নামে প্লাস্টিক দূষণ, প্রাকৃতিক ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং পাখি নিধন বন্ধ করা।
১০. হাওর অঞ্চলের পর্যটনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা।

​সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু, শাহ কামাল, সুহেল আলম; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুদ্দীন, আকিক মিয়া, ফজলে রাব্বি, মোশফিকুর রহমান; সমাজসেবক মনসুর আলম, নুরুল হাসান আতাহার, সুরঞ্জিত গুপ্ত রঞ্জনু, দ্বিপাল ভট্টাচার্য এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব আহমদ উসমান, মধ্যনগর উপজেলা হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব মোঃ খসরুজ্জামান কবীর প্রমুখ।​নাগরিক সমাবেশ শেষে উপস্থিত সর্বসাধারণের মাঝে পরিবেশ সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করা হয়।

আজকালের কন্ঠ/আর এস

প্রিন্ট করুন