Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ জুন ৫, ২০২৬ , ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলে সংঘর্ষ, আহত ১৩

লেখকঃ কাজী ইমরান, নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাতের অন্ধকারে টর্স লাইট জ্বালিয়ে মোল্যা গ্রুপ ও মুন্সি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গুরুতর আহতদের লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে রিপার্ট করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ১১ টার দিকে উপজেলার মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। টর্স লাইট জ্বালিয়ে ২ ঘণ্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষ চলে।

স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় ৪০/৫০ বছর ধরে সামাজিক অধিপত্য বিস্তার ধরে রাখার জন্য মোল্যা গ্রুপ ও মুন্সি গ্রুপের মধ্যে শত্রুতা চলে আসছে। বর্তমানে মোল্যা গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যাসহ হিরাঙ্গীর মোল্যা, লিয়াকত মোল্যা এবং বর্তমানে মুন্সি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সিসহ জাফর মুন্সি ও আজমল মুন্সি।

বৃহস্পতিবার রাতে মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আপন দুই ভাই মিলাত শেখ ও নান্নু শেখের মধ্যে দ্বন্দ্ব মিমাংসার জন্য পাশ্ববর্তী লুটিয়ার পঞ্চপল্লী এলাকার মাতব্বরদের উপস্থিতিতে শালিসির মাধ্যমে সমাধান হয়। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব মিমাংসা হওয়ার পর লোকজন যারযার বাড়ি চলে যায়।

মুন্সি গ্রুপের লোকজন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, মিলাত শেখ ও নান্নু শেখ আপন দুই ভাইয়ের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব মিমাংসার পর লোকজন যারযার বাড়ি চলে যায়। বাড়ি এসে যারযার মত ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমিয়ে পড়ার পর শহিদুল মোল্যা গ্রুপের লোকজনসহ বহিরাগত লোকজনদের নিয়ে ঢাল, শরকি, ছ্যানদা, রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে সরদার বংশের লোকেদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়িঘর, অন্যান্য আসবাবপত্র, ফ্রিজ কুঁপিয়ে তছনছ করে দেয়। এতে প্রায় ২০/২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তারা। হামলার খবর পেয়ে তাদের লোকজন আত্মরক্ষার জন্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ৯ জন গুরুতর জখম হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তারা জানান।

আহতরা হলেন, আহতরা হলেন মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের হানিফ সরদার (৩৫), রাকিব সরদার (২০) খাঁজা সরদার (৬০), আজাদ সরদার (৪৫), মিজানুর মুন্সি (৫০) ইজাজুল মুন্সি (৩৮), আজিজুল মুন্সি (৪২), জামাল মুন্সি (৩৮), লিমা বেগম (৩০)।

তারা পুলিশ প্রশাসনের নিকট এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অপরদিকে মোল্যা গ্রুপের লোকজন সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, বিগত দিনে আজমল মুন্সির নেতৃত্বে আমাদের লোকজনের উপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। এখনও কালাম মুন্সি, আজমল মুন্সির নেতৃত্বে আমাদের লোকজনের বিভিন্ন সময় উপর অত্যাচার, নির্যাতন চলে আসছে। গতকাল রাতে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রসহ পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরাও আত্মরক্ষার জন্য সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ি। এ সংঘর্ষে আমাদের ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহতরা হলেন মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩২), বাচ্চু মোল্যা (৫০), রাফেজা বেগম (৫৫) ও সাইদুল সরদার (৩৫)।

তারা পুলিশ প্রশাসনের নিকট এই ধরনের হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ইনস্পেকটর (ওসি তদন্ত) অজিত কুমার রায় বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ওই এলাকায় পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও লিখিত অভিযোগ পায়নি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন