Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:৪২ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ৩০, ২০২৬ , ৩:৪৮ অপরাহ্ণ

পর্যটকদের বসার আসন চুরি, নিরাপত্তাহীন মেঘনা পাড়

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী মাতাব্বরহাট বেড়িবাঁধ এলাকায় বেড়েছে চুরির ঘটনা। একের পর এক চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্বেগে পড়েছেন পর্যটকরাও। সম্প্রতি পর্যটকদের জন্য স্থাপন করা লোহার ঢালাইযুক্ত বসার আসন চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত বেড়িবাঁধটি বর্তমানে জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ নদীর মনোরম সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে বসার জন্য লোহার ঢালাইযুক্ত আসন স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেখান থেকে একটি আসন চুরি হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, শুধু পর্যটকদের বসার আসনই নয়, এর আগেও বেড়িবাঁধসংলগ্ন ওয়েস্টিন কোম্পানির একটি অফিসে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় অফিসের বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় এলাকায় চোরচক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মেঘনা পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও পর্যটকদের সুবিধার্থে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পর্যটন অবকাঠামোর ক্ষতির পাশাপাশি এসব চুরির ঘটনায় এলাকার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে আমরা টিকে আছি। এখন আবার চুরির আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে। পর্যটকদের বসার আসন পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে যেমন সরকারি সম্পদের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। ফলে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসী ও পর্যটকদের দাবি, মাতাব্বরহাট বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল ও কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হোক। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, মেঘনা পাড়ের এই সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে একদিকে যেমন সরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পর্যটকদের আগ্রহও কমে যেতে পারে। ফলে এলাকার পর্যটন বিকাশ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রিন্ট করুন