Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ৩০, ২০২৬ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

চামড়া বিক্রি তো দূরের কথা, দুর্গন্ধ সামলাতেই হিমশিম মাদ্রাসাগুলো

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে বিভিন্ন এতিমখানা, হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ঈদের তৃতীয় দিনেও অধিকাংশ চামড়ার কোনো ক্রেতা না পাওয়ায় সেগুলো বিক্রি তো দূরের কথা, দুর্গন্ধ সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটিকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক প্রতিষ্ঠান বাধ্য হয়ে নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে চামড়াগুলো মাটিচাপা দিচ্ছে।

জেলার সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোরবানিদাতারা প্রতিবছরের মতো এবারও সওয়াবের আশায় পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। সাধারণত এসব চামড়া বিক্রি করে এতিম শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণ, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার বাজারে ক্রেতা সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাসের কারণে সেই আশায় ভাটা পড়েছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন ও পরদিন সংগৃহীত চামড়াগুলো লবণ দিয়ে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হলেও বাজারে ক্রেতার দেখা মেলেনি। ফলে চামড়াগুলো দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় পচন ধরতে শুরু করেছে এবং আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।

রামগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক বলেন, “মানুষ আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য চামড়া দান করেছেন। আমরা ভেবেছিলাম এগুলো বিক্রি করে কিছু অর্থ পাব। কিন্তু ঈদের তৃতীয় দিনেও কোনো ক্রেতা নেই। এখন দুর্গন্ধের কারণে ছাত্রদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।”

রায়পুরের একটি এতিমখানার দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, “চামড়া বিক্রি করে প্রতিবছর কিছু আয় হতো। এবার সেই আয় তো হয়নি, উল্টো চামড়া সংরক্ষণ ও অপসারণে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা খরচ করতে হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে আবাসিক শিক্ষার্থীরাও কষ্ট পাচ্ছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনেক স্থানে চামড়ার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে শ্রমিক নিয়োগ করে গর্ত খুঁড়ে চামড়াগুলো মাটিচাপা দিয়েছে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীদের দাবি, ট্যানারিগুলোর সীমিত চাহিদা, অর্থ সংকট, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এবার চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে গ্রামের পর্যায়ে চামড়ার বাজার প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কোরবানির পশুর চামড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। কিন্তু বছরের পর বছর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় এই খাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে মানুষ চামড়া দানে আগ্রহ হারাতে পারে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতিম ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রিন্ট করুন