Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ২৭, ২০২৬ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে

লেখকঃ মাসুদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) বিকেল সোয়া ৫টায় দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় তিনি দিনাজপুর শহরের সর্বস্তরের মুসল্লিদের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের আহ্বান জানান।

আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। দিনাজপুর পৌরসভার আয়োজনে এখানে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদুল আযহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী।

ঈদের জামাতে অংশ নেবেন সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য মোস্তফা কামাল মিলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিরা শুধুমাত্র জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন। এছাড়া মাঠ এলাকায় দুটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে।

লাখো মুসল্লির ওজুর সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওযুখানা ও পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের জন্য অসংখ্য মাইক স্থাপন করা হচ্ছে।

দিনাজপুর পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানের আয়তন প্রায় ২২ একর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

২০১৭ সালে ঈদগাহ মাঠে ৫২টি গম্বুজ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। গম্বুজগুলোর দুই পাশে ৬০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার এবং মাঝখানে ৫০ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। এছাড়া ৫১৬ ফুট দৈর্ঘ্যে ৩২টি আর্চ নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো মিনার সিরামিক্স দিয়ে নির্মিত এবং প্রতিটি গম্বুজ ও মিনারে দৃষ্টিনন্দন বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা রয়েছে। রাতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ মাঠ।

২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর বৃহৎ পরিসরে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন দিনাজপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এ বছরও ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পৌরসভার উদ্যোগে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন