পটুয়াখালীর দুমকিতে দেনার চাপ, সুদের বোঝা ও পাওনাদারদের কথিত মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহত্যা করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লেখক মাওলানা আবুল কালাম খান। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাড়ির আঙিনায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি চিরকুট ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহতের স্বহস্তে লেখা চিরকুটে ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন— উত্তম কুমার, কালাম মৃধা, মিলন মৃধা, হান্নান সিকদার, দেলোয়ার হোসেন টিটু খা ও ছালাম মৃধা। চিরকুটে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা অভিযোগ তুলে ধরে তাদের নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন আবুল কালাম খান।
চিরকুটের ভাষ্যমতে, দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার পিলার ব্যবসায়ী উত্তম কুমার “পিলারের ব্যবসার লোভ” দেখিয়ে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তম কুমার দাবি করেন, “আমি কালাম খানকে চিনিই না।”
চিরকুটে আরও উল্লেখ করা হয়, কালাম মৃধা ওই অর্থ লেনদেনে মধ্যস্থতা করে টাকার ভাগ নিয়েছেন। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আরেক অভিযুক্ত মিলন মৃধার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তাকে সাক্ষী রেখে ১০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার শর্তে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মিলন মৃধা বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে চিরকুটে লেখা রয়েছে। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চিরকুটে দেলোয়ার হোসেন টিটু খাকে এলাকার “শীর্ষ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী” হিসেবে উল্লেখ করে আবুল কালাম খান লিখেছেন, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বছরে ২০ হাজার টাকা সুদ দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে না পারায় টিটু খা তাকে পথে-ঘাটে দেখলেই হত্যার হুমকি দিতেন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে টিটু খা বলেন, “এসব মিথ্যা ও বানোয়াট কথা।”
বাকি অভিযুক্ত হান্নান সিকদার ও ছালাম মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের মেয়ে রাবেয়া বলেন, “কিছু লোক আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অত্যাচার করেছে। চিরকুটে যাদের নাম আছে, তাদের বিষয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের কাছে কষ্টের কথা বলতেন। সেই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই বাবা এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা বিচার চাই।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে পড়েছিলেন আবুল কালাম খান। একসময় তিনি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন এবং দলিল লেখক হিসেবে কাজ করতেন।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আজকালের কন্ঠ/আর বি