কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী সংগঠন ভাষা-সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের হলরুমে এই অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গোলাম মাওলার লিখিত ‘নজরুলের প্রবন্ধ সাহিত্য : চিন্তার স্বাতন্ত্র্য’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহা খানম এবং অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রামভাবনা ও কুমিল্লা বার্ডের প্রভাব’ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মো. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম, সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমাইয়া আফরিন সানি এবং প্রভাষক মো. গোলাম মাহমুদ পাভেল। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন্নাহার শীলা।
আয়োজন নিয়ে বাংলা ভাষা-সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, “বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম চিরভাস্বর নাম। তাঁদের জন্মজয়ন্তী উদযাপনের এই আয়োজন আমাদের জন্য এক আনন্দের বিষয়। রবীন্দ্রনাথ আমাদের শিখিয়েছেন মানবতাবাদ ও বিশ্বচেতনা। নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন সাম্য, মানবমুক্তি ও বিপ্লবের বাণী। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব শুধু তাঁদের স্মরণ করা নয়, তাঁদের আদর্শকে নিজেদের জীবনে ধারণ করা।”
তিনি আরও বলেন, “এই অনুষ্ঠান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর করবে এবং রবীন্দ্র-নজরুল চর্চায় অনুপ্রাণিত হবে বলে বাংলা ভাষা সাহিত্য পরিষদের বিশ্বাস।”
অনুষ্ঠানটির সভাপতি বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন্নাহার শীলা বলেন, ” আমাদের শ্রদ্ধেও শিক্ষকমণ্ডলী প্রবন্ধ ও শিক্ষার্থীদের আলোচনা, সব মিলিয়ে আমরা অনেক কিছু জানতে পারলাম, আমাদের সৌভাগ্য এই যে রবীন্দ্রণাথ ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁরা বাংলা দুই ভিন্ন মাসে জন্ম গ্রহন করলেও তাঁদের ইংরেজি মাস একই হওয়ায় বাংলা বিভাগ তাঁদের জন্মউৎসব একসাথে পালন করার সৌভাগ্য পায়। আমরা দীর্ঘ আটবছর এর বেশী আগে শেষ রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী পালন করেছিলাম। দীর্ঘদিন বাংলা বিভাগ রবীন্দ্র নজরুল জয়ন্তী পালন করে নি তা নয়। আসলে এ উৎসবগুলো হয়েছিল রোজার বন্ধের মধ্যে। যার কারনে সৌভাগ্য হয়নি। তো বহুদিন পর আমরা সেই সৌভাগ্য অর্জন করতে পেরেছি, আমরা সন্তুষ্ট হওয়ার মতো আজকে উপস্থিতি পেয়েছি।”
উল্লেখ্য, রবীন্দ্র–নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলা বিভাগের আঙ্গিনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী সম্পর্কিত চিত্র প্রদর্শনী হয় একই সাথে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।
আজকালের কন্ঠ/আর বি