সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মীকে অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে গতিরোধ করে ২০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (১১ মে) বিকাল তিনটার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার দাঁড়িপাতন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক স্টাফ মোহাম্মদ আলী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে সিএনজিযোগে রাজাগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে পৌর এলাকার দাঁড়িপাতন চত্ত্বরে পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা তাদের গতিরোধ করে। প্রথমে একটি মোটরসাইকেল সিএনজির সামনে এসে দাঁড়ায়। পরে আরও দুটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন যুবক দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে অস্ত্র প্রদর্শন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা ব্যাংক স্টাফকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে। পরে মোটরসাইকেলযোগে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্যাংক স্টাফ মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রাজাগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেই। দাঁড়িপাতন এলাকায় পৌঁছামাত্র কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী এসে সিএনজির গতিরোধ করে। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়।”
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট অঞ্চলে মোটরসাইকেলচালিত ছিনতাইকারী চক্রের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর বিভিন্ন ব্যক্তিকে টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চক্র এসব অপরাধ সংঘটিত করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সামনে এসেছে সাম্প্রতিক আরেকটি বড় ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত শুক্রবার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা নাসিম হোসাইনের বিকাশ এজেন্টের ৫০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করলেও এখনও পুরো টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে একাধিক বড় অঙ্কের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সিলেটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছে, ব্যাংক ও আর্থিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং মোটরসাইকেলচালিত সন্দেহভাজনদের তল্লাশি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আজকালের কন্ঠ/আর বি