Header
প্রিন্ট তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ , ৭:২০ অপরাহ্ণ | প্রকাশের সময়ঃ মে ১১, ২০২৬ , ৭:২৭ অপরাহ্ণ

রামগতিতে নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেই ঠিকাদার, প্রকল্পের অর্থ লোপাটের অভিযোগ

লেখকঃ জাকির হোসেন জুয়েল, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা নির্বাচন অফিসের সংস্কার ও টাইলস স্থাপনের নামে ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ও সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজ উল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূতভাবে ঠিকাদার নিয়োগ না করে নিজেরাই প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করে বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা নির্বাচন অফিস ভবনের সংস্কারের জন্য ৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বিধি অনুযায়ী প্রকল্পের এস্টিমেট প্রস্তুত করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করার কথা ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেই নিয়ম অনুসরণ না করে কাগজে-কলমে মাত্র ২০ হাজার টাকার চুক্তি দেখিয়ে মেসার্স মাকছুদুর রহমান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করেন। পরে ওই লাইসেন্সের মাধ্যমে বরাদ্দের পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মো. মিলন নামে এক রাজমিস্ত্রী দিয়ে ভবনের নিচতলায় কিছু টাইলস বসানো ও সামান্য রংয়ের কাজ করানো হচ্ছে। স্থানীয়দের ধারণা, এ কাজের ব্যয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম ও সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজ উল্লাহর বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে কাজ করতে থাকা রাজমিস্ত্রী মো. মিলন বলেন, “আমার কাছে কোনো কাগজপত্র নেই। নির্বাচন অফিসার আমাকে টাইলস ও কিছু রংয়ের কাজ করতে বলেছেন। আমি সে অনুযায়ী কাজ করছি।” কাজের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় কাজ শেষ করা সম্ভব।”

কাগজে-কলমে দেখানো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাকছুদুর রহমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মাকছুদুর রহমান বলেন, “কয়েকজন সাংবাদিক কাজটি দেখতে যাওয়ার পর নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা তড়িঘড়ি করে আমার লাইসেন্স ব্যবহারের অনুরোধ করেন। তাদের অনুরোধে আমি লাইসেন্স ব্যবহার করতে দিই এবং ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দিই।”

অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজ উল্লাহ বলেন, “নিয়মানুযায়ী কাজ হচ্ছে। আমি এখন গাড়িতে আছি, পরে কথা বলবো।”উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আজকালের কন্ঠ/আর বি

প্রিন্ট করুন