মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার চা-বাগানঘেরা কমলগঞ্জের অনেক পরিবারে এখনও শিক্ষাই সবচেয়ে বড় সংগ্রামের নাম। কারও সংসার চলে দৈনিক মজুরির টাকায়, আবার কেউ নির্ভরশীল দূর প্রবাসে থাকা স্বজনদের পাঠানো অর্থের ওপর। সেই বাস্তবতার মাঝেই শনিবার (৯ মে) এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয় তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। নতুন স্কুল ড্রেস, শিক্ষা বৃত্তি ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান ঘিরে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সমাজ বদলের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে শিক্ষা। সরকার একা সব করতে পারবে না; প্রবাসী ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, কমলগঞ্জের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শিক্ষা খাতে তাঁদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “মেধাবী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ালে কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অর্থের অভাবে থেমে থাকবে না।”
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ আরও আধুনিক করতে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
এদিন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে অনেকেই আনন্দ লুকাতে পারেনি। অভিভাবকদের মধ্যেও ছিল স্বস্তির অনুভূতি। কারণ, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের এই সময়ে সন্তানের শিক্ষা ব্যয় সামলানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
রুনা বেগম–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আসাদুজ্জামান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন দেব–এর পরিচালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. সামছুননাহার পারভীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল হোসেন এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সোয়েব আহমেদ।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন মো. আব্দুল মুমিন, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সদস্যসচিব মো. সিরাজুল ইসলাম, শিক্ষিকা অর্পিতা সরকার এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোশারফ হোসেন শায়েক। বক্তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠগ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
শেষপর্বে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল ড্রেস এবং অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়। ছোট্ট আয়োজন হলেও সেখানে স্পষ্ট ছিল বড় এক প্রত্যাশা—শিক্ষিত প্রজন্মের হাত ধরেই বদলে যাবে কমলগঞ্জের আগামীর গল্প।
আজকালের কন্ঠ/আর বি