বিশ্ব শান্তি ও অধিকারের জন্য ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রত্যয় নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আয়োজিত হয়েছে দ্য আর্ক অফ ডিপ্লোম্যাটস ২০২৬ শীর্ষক দ্বিতীয় আঞ্চলিক (MUN) কনফারেন্স। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের (আইইউমুনা) উদ্যোগে ৭ ও ৮ মে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ক্লোজিং প্লেনারির মাধ্যমে ৭ মে শুরু হওয়া আঞ্চলিক কনফারেন্সটি শেষ হয়।
১৫টি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক কনফারেন্সটির জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে ছিলেন আইউমুনার সভাপতি নাজমুস সাকিব জিতু এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
জানা যায়, কনফারেন্সটিতে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ( ডব্লিউএইচও), ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি), ইউনাইটেড নেশনস হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল (ইউএনএইচআরসি), ইন্টারন্যাশনাল প্রেস (আইপি), জাতীয় সংসদ (জাসা) এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) কে প্রতিনিধিত্বকারী ছয়টি প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে যাদের মধ্যে বেস্ট ডেলিগেটস আওয়ার্ড পায় স্বাগতিক আইউমুনা ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আইউমুনার অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান লুমান বলেন, দু’দিন ধরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দ্য আরক্ অব ডিপ্লোমেট’ আঞ্চলিক কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের দক্ষতা তৈরি করা। ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ আমাদের এই আয়োজনকে সার্থক করে তুলেছে।
আমরা দেখেছি কীভাবে প্রতিনিধিরা ডব্লিউএইচও থেকে শুরু করে ওআইসি পর্যন্ত বিভিন্ন কমিটিতে বসে বিশ্ব রাজনীতির জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই সফল আয়োজন সম্পন্ন করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকেই আগামীর যোগ্য কূটনীতিকরা উঠে আসবে যারা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন,ছাত্রজীবনে ‘মডেল জাতিসংঘ’ বা এমইউএন-এ অংশগ্রহণের এই সুযোগ পাওয়া আপনাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের। এর মাধ্যমে আপনারা কূটনীতি, নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার (Negotiation) বাস্তব কলাকৌশল হাতে-কলমে শিখতে পারছেন।
তবে মনে রাখবেন, নিজেকে একজন দক্ষ ও প্রকৃত কূটনীতিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শুধু এমন আয়োজনে অংশ নেওয়াই যথেষ্ট নয়। আপনাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন, বিশ্ব রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতি এবং কূটনীতি নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের উদ্দেশ্য এবং এর সনদ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখাও একজন কূটনীতিকের জন্য বাধ্যতামূলক। কারণ, আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা একজন কূটনীতিকের যোগ্যতাকে অসম্পূর্ণ করে রাখে।
তাই আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক অধ্যয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য নিজেদের একজন দক্ষ ও যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলুন।
আজকালের কন্ঠ/আর বি